বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
আজ বৃহস্পতিবার এক অভিনন্দন বার্তায় অলি আহমদ নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন গণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
শুভেচ্ছাবার্তায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তাঁদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, “দীর্ঘ রাজনৈতিক সহযাত্রায় আমরা উভয়ে প্রায় সময় একসাথে দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আমাদের বিশ্বাস ও অঙ্গীকার অভিন্ন।”
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দীতাহীন থাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এলডিপি প্রধান বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদে বিকল্প নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় সংসদ ও জনগণের সামনে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তিনি বলেন, “পয়ত্রিশ বছর পর এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অন্তত সেই সীমাবদ্ধতা থেকে বের হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্য আমাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে এই গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”
অলি আহমদ মনে করেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি পদকে কেবল ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনে সীমাবদ্ধ না রাখার একটি ইতিবাচক নজির হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দল-মত ও গোষ্ঠীগত বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন অলি আহমদ। তিনি বলেন, “জাতির এই সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জনগণের আস্থার ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। গণভোটে জনগণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান, জবাবদিহি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপের প্রশ্নে আপনার নিরপেক্ষ ও সক্রিয় অবস্থান দেশবাসী প্রত্যাশা করে।”
তিনি আরও যুক্ত করেন যে, পদ বা নির্বাচনী ফলাফলের ঊর্ধ্বে থেকে দেশের মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সংগ্রাম তিনি চালিয়ে যাবেন। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সমগ্র জাতির ঐক্য, মর্যাদা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বার্তায় তাঁর সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন।

