রাজধানীতে জশনে জুলুসের মহাসমাবেশ: সোহরাওয়ার্দীতে লাখো মানুষের মিলনমেলা

0
রাজধানীতে জশনে জুলুসের মহাসমাবেশ: সোহরাওয়ার্দীতে লাখো মানুষের মিলনমেলা

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে সুবিশাল ও বর্ণাঢ্য ‘জশনে জুলুস’ (ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রা)। বুধবার ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো সুফিবাদী জনতা। সাদা পোশাকে সজ্জিত সর্বস্তরের নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো উদ্যান ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে সংগঠনের সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে বিশাল জুলুস বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হয়।

অগ্রভাগে ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ লেখা বিশাল ব্যানার, হাতে কালেমাখচিত ও বিশাল জাতীয় পতাকা, রকমারি বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও রঙিন ফেস্টুন। অংশগ্রহণকারীদের গায়ে সাদা টি-শার্ট ও মাথায় টুপি। ‘নারায়ে তাকবীর, নারায়ে রিসালাত’ এবং মহানবীর (দ.) শানে সালাত-সালামের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ।

জুলুস শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।

মহাসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, “মহানবী (দ.) সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে আসা আল্লাহর বড় রহমত। বর্তমান বিশ্বের চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতা নিরসনে রাসূলে পাকের (দ.) প্রদর্শিত ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষা বাস্তবায়ন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট (বিএসপি) প্রধান ও আঞ্জুমানের প্রতিনিধিরা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে মহানবীর (দ.) সুন্নাহ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন ও শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন (সভাপতি, মইনীয়া যুব ফোরাম)। প্রফেসর এমিরেটস ড. আনিসুজ্জামান (ভাইস চ্যান্সেলর, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি)। অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান (সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)। আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকী বিল্লাহ আজহারী এবং মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এ আয়োজন শেষে বিশ্বশান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।