বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা সম্মেলন: কারিগরি শিক্ষায় জোর ও চালু হলো যৌথ ‘শিল্প-শিক্ষা কেন্দ্র’

0
বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা সম্মেলন: কারিগরি শিক্ষায় জোর ও চালু হলো যৌথ ‘শিল্প-শিক্ষা কেন্দ্র’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার প্রথাগত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি বা সর্বস্তরের জনযোগাযোগ জোরদারে শিক্ষাকে মূল চালিকাশক্তি করার বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে সফরে গিয়ে দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আন্তর্জাতিক মহাসমাবেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’কে বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে এক গুচ্ছ কৌশলগত প্রস্তাবনা ও সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।

বেইজিংয়ের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে মাহদী আমিন দুই দেশের বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক পটভূমি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বর্তমান যে বিশ্বস্ত ও প্রগাঢ় দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি, তা রোপিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের দূরদর্শী নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই এ সম্পর্ক নতুন কূটনৈতিক ও কৌশলগত উচ্চতায় পৌঁছায়। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।”

বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের তত্ত্বনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে মাহদী আমিন জানান, বর্তমান সরকার দেশের তরুণদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে প্রায়োগিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় রূপান্তর ঘটাচ্ছে।

সব পর্যায়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET) সম্প্রসারণের পাশাপাশি তা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত মান্দারিন (চীনা ভাষা) শিখতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ও ইন্ডাস্ট্রির চাহিদার ব্যবধান কমাতে সরাসরি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিং ও অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধার প্রশংসা করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা সরকারি ও বেসরকারি স্কলারশিপ বহুগুণে বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌথ গবেষণা এবং বিজ্ঞানাগারের আধুনিকায়নে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম মাইলফলক ছিল ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’ (China-Bangladesh Industry and Education Integration International Service Center) -এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে দুই দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল/প্রযুক্তি খাত সরাসরি যৌথ ডিগ্রি প্রদান ও সামার স্কুল প্রোগ্রামের সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ নীতি নির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আ ন ম এহছানুল হক মিলন (শিক্ষামন্ত্রী, বাংলাদেশ)। মোহাম্মদ দাউদ মিয়া (সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ)। চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চীনের শীর্ষ পলিটেকনিক ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানগণ।

সম্মেলনের সমাপনীতে মাহদী আমিন আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মেধা, প্রযুক্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মেলবন্ধনে অর্জিত এই শিক্ষা পার্টনারশিপ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।