সাহারুল হক সাচ্চুঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এবারে এখনো স্বাভাবিক বন্যা হয়নি। এই ভাদ্রে বেশির ভাগ মাঠ , খাল – বিলে তেমন বন্যার পানি নেই। বিভিন্ন এলাকার খাল ,নালা – বিলে বৃষ্টি বাদলের পানি কিছুটা জমে আছে। এবারে বন্যার পানি না থাকায় বর্ষাকালের দেশী মাছের বংশ বাড়ছে না। বন্যার পানি আছে এমন সব এলাকায় দেশী মাছ কম মিলছে। দেশী মাছ আকারে তেমন বাড়ছে না। আবার নিষেধ না মেনে বন্যার পানিতে দেশীয় সব জাতের ছোটো মাছ জালে ধরে হাট বাজারে বেচা হচ্ছে। বন্যার পানিতে মাঠ , খাল , নালা – বিল না ডুবলে আর মাছ ধরা বন্ধ না হলে দেশী মাছের আকাল দেখা দিতে পারে এমন কথা অনেকেই বলছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলার নীচু অঞ্চলের উধুনিয়া , মোহনপুর , বড় পাঙ্গাসী , বাঙ্গালা ইউনিয়নের প্রায় সব মাঠ , খাল , নালা – বিল স্বাভাবিক বন্যাতেই পানিতে তলিয়ে যায় । এছাড়া উপজেলার পূর্ণিমাগাতী , কয়ড়া, রামকৃষ্ণপুর, সলংগা, উল্লাপাড়া সদর , দুর্গানগর, সলপ ইউনিয়নের নীচু এলাকার বিভিন্ন মাঠ, নালা, খাল – বিল স্বাভাবিক বন্যার পানিতে ডুবে যায়। একটানা মাস তিনেক সময় এসব মাঠ , খাল – বিল বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকে। বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা মাঠ, খাল – বিলগুলোয় দেশীয় নানা ধরনের মাছ বংশ বাড়ায়। দেশী মাছগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী হয় পুটি, খলিশা , টেংরা, কৈ, চাপিলা, গোরকা , টাকি , বাইমসহ নানা দেশীয় মাছ। এসব মাছ বন্যার পানিতে ডিম – পোনা ছেড়ে বংশ বাড়ায়। বন্যার পানিতে মাছ তাড়াতাড়ি আকারে বড় হয়।
এবারে এখনো স্বাভাবিক বন্যা হয়নি। বিভিন্ন ইউনিয়ন এলাকার বেশিরভাগ মাঠ , খাল বিলগুলোয় বন্যার পানি হয়নি। আবার নীচু মাঠ , খাল বিলগুলো থেকে কমবেশি হওয়া বন্যার পানি এরই মধ্যে কিছুটা শুকিয়ে গেছে। এখন শুধু উপজেলার উধুনিয়া , বড় পাঙ্গাসী ও মোহনপুর ইউনিয়নের একেবারে নীচু মাঠ , খাল বিলে বন্যার পানি আছে। তাও আবার বেশি উচ্চতায় নেই। বন্যার পানি এক দুদিন বাড়ছে। আবার এক দুদিন বাড়া থেমে থেকে তা কমছে। বন্যার পানি পানিতে তলিয়ে যেতো এমন অনেক মাঠ , খাল বিলগুলোয় বৃষ্টি বাদলের পানি জমে আছে। কোথায় হাটু সমান । আবার কোথায় আধা হাটুর নীচে। কোথায় চাকচিকানি পানি জমে আছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে বিনায়েকপুর , আফার , সাতবারিয়া , আলীগ্রাম , হাওড়া , কাশেম বিল , পাঙ্গাসী মাঠ , চক খাদুলী , ত্রিমোহনী ব্রীজের মাঠ , চাকসা , মোহনপুর , বর্ধনগাছা ও আরো বিভিন্ন এলাকার মাঠে বন্যার পানি নেই । এসব মাঠ স্বাভাবিক বন্যা হলেই পানিতে তলিয়ে থাকতো। এবারে এখনো স্বাভাবিক বন্যা হয়নি বলেই মাঠে পানি নেই । কোনো কোনো মাঠে বৃষ্টি বাদলের পানি জমে আছে। সে পানি উচ্চতার মাপে এক – সোয়া ফুটের বেশি নেই। কাশেম বিলের সাবমারজিবল সড়কের দুপাশে পানি জমে আছে। রহিমপুর মাঠে , কৈগাতি মাঠে বন্যার পানি হয়নি।
এবারে স্বাভাবিক বন্যা না হওয়ায় এলাকার মাঠ , খাল বিলগুলোয় দেশীয় মাছের বংশ তেমন বাড়ছে না বলে জানা গেছে । বন্যার পানি হওয়া মাঠ , খাল বিলগুলোয় ডিম থেকে পোনামাছ হলেও তা আকারে তাড়াতাড়ি বাড়ছে না। এমনিতেই বন্যার পানি না হওয়ায় দেশীয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। এলাকার অনেকেই পোনামাছ ধরা নিষেধ জেনেও বাদাই জালসহ নানা ধরণের জাল দিয়ে মাছ ধরছে। এসব মাছ গ্রামীণ হাট বাজারগুলোয় বেচাকেনা বেশি হচ্ছে ।
উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের রহিমপুরের মো. হাতেম আলী , বড় পাঙ্গাসীর মো. আনোয়ার হোসেন বলেন বন্যার পানি না হওয়ায় দেশীয় মাছ মাছের বংশ ব্যাপকভাবে বাড়ছে না। আবার যাওবা কম বেশি পরিমাণ মাছ নীচু এলাকার বন্যার পানিতে ও উচু এলাকার বৃষ্টি বাদলের পানিতে এলাকারই জেলেরা তা ধরে বেচছেন। আবার গৃহস্থদের অনেকেই মাছ ধরছেন।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. আতাউর রহমান বলেন এবারে এখনো স্বাভাবিক বন্যা না হওয়ায় দেশীয় মাছের বংশ ব্যাপকহারে বাড়ছে না। আর দেশীয় মাছ কম পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন। উপজেলার নীচু অঞ্চলের উধুনিয়া , মোহনপুর , বড় পাঙ্গাসী , বাঙ্গালা ইউনিয়ন এলাকায় বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা মাঠ , খাল – বিলগুলোয় পোনামাছ ধরা বন্ধে তার বিভাগ থেকে আরো জোরালো অভিযান চালানো হবে। বন্যার পানি থেকে ধরা নিষেধ এমন মাছগুলো না ধরতে সতর্ক করা ও আহবান জানান। এতে করে দেশীয় মাছ চাহিদামতো মিলবে বলে জানানো হয়। তিনি আরো বলেন দেশীয় মাছের বংশ বাড়ানো ও ব্যাপক পরিমাণ পেতে উল্লাপাড়াসহ চলনবিল অঞ্চলের খাল – বিল এলাকায় বহু সংখ্যক স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম করার দরকার আছে। এবিষয়ে প্রকল্প করা হবে বলে জানান।

