আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ভেঙে তৈরি হওয়া আকস্মিক কাদা-পানির ঢলে সৃষ্ট ট্র্যাজেডিতে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে পৌঁছেছে। ভয়াবহ এ বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনে উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত গতিতে চললেও ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে প্রায় ২,৪০০-এর বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর পাহাড়ি এই দেশটিতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে রূপ নিয়েছে।
নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশটি থেকে ৬১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চীনের তিব্বত অংশে এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া, নুয়াকোট ও পার্শ্ববর্তী নদীবাহী অঞ্চলগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহে দেশের মর্গগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া অনেক লাশ প্রতিবেশী ভারতের বিভিন্ন নদীতেও ভেসে উঠছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি তিব্বতের কৈলাশ পর্বতগামী বহু পুণ্যার্থী, ট্রেকার এবং আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯৩৩ জন কর্মী রয়েছেন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং পর্বত বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমালয়ের উচ্চচূড়ায় একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়ে। বরফ, পাথর ও কাদা-মাটি মিশে ৫.২ মাত্রার ভূকম্পনের সমপরিমাণ শক্তিতে একটি কৃত্রিম বাঁধ ও ঢল তৈরি হয়। পরবর্তীতে লেন্দে খোলা ও ভোটেকোশী নদীর অববাহিকায় মাত্র ৩০ মিনিটে ৯ মিটারের বেশি পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে জনপদ ও সীমান্ত অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
নেপাল ও চীনের যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪ হাজারেরও বেশি সদস্য দুর্যোগকবলিত প্রত্যন্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছেন। সামরিক হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে এ পর্যন্ত ৩,৭০০-এর বেশি আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।
রাসুয়া জেলায় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাদা জমে থাকা দীর্ঘ সুরঙ্গে আটকা পড়া শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে ৩৫০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী।
তিব্বতের গিরোং বন্দর সংলগ্ন উপত্যকায় কাদা-ধ্বংসাবশেষ জমে সাময়িকভাবে একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছিল। পানি কিছুটা উপচে পড়লে ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জনে শুক্রবার উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রেখে নতুন সতর্কতা জারি করা হলেও, স্যাটেলাইট তথ্যে দেখা গেছে কৃত্রিম হ্রদের পানির স্তর ১০ মিটার কমে বিপদমুক্ত হয়েছে এবং শনিবার থেকে আবারও পূর্ণমাত্রায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।

