
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যত সীমাবদ্ধতাই থাকুক না কেন, আত্মত্যাগকারী এসব পরিবারের পাশে সরকার সব সময় থাকবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আজ শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী হল’-এ গুম-খুন ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা-উত্তর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “সরকার কেবল নিজ উদ্যোগে কাজ করছে তা নয়; বরং ক্ষতিগ্রস্ত ও নিপীড়িত এই পরিবারগুলোর সমর্থন এবং সাহস আছে বলেই সরকার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে উদ্যম পাচ্ছে। এই দেশ ও দেশের মানুষই আমাদের উৎসাহ এবং শক্তির আসল উৎস।”
তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দেন যে, যতদিন দেশের জনগণ বিএনপি সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রাখবে, ততদিন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আশা-প্রত্যাশা পূরণ ও পুনর্বাসনে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠানে গুম-খুন ও জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের মোট ৭৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ১০ জন স্বজনের হাতে সরাসরি নিয়োগপত্র তুলে দেন, তাঁদের সার্বিক খবরাখবর নেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যাদের অনুপস্থিতির বিনিময়ে বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ একটি ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে, তাঁদের অপূরণীয় ক্ষতি কোনো কিছু দিয়েই পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়। তবে আমাদের অবস্থান থেকে আমরা অতীতেও আপনাদের পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইশফাক আহমেদ, শাম্মী সুলতানা, আলাল আহমেদ, শহীদ আনভীর বাবা মমতাজ হোসেন, শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন এবং জুলাই যোদ্ধা কাজী সাইমুম সিরাজ। পরম স্বজন হারানো এই সদস্যরা নিয়োগপত্র পেয়ে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি গুম, খুন ও গণহত্যার সাথে সরাসরি জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
