মধ্যরাতে বাইকে সেই ‘নিথর’ তরুণী জীবিত: ‘মানসিক চাপে নিজ ঘরেই মদ পান করি, বাইকের চালকরা উদ্ধারকারী চাচা’

0
মধ্যরাতে বাইকে সেই ‘নিথর’ তরুণী জীবিত: ‘মানসিক চাপে নিজ ঘরেই মদ পান করি, বাইকের চালকরা উদ্ধারকারী চাচা’

সুমন গাজীঃ রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলের মাঝে এক তরুণীকে সম্পূর্ণ ‘নিথর’ ও নিস্তেজ অবস্থায় পরিবহন করার রহস্যের জট খুলেছে। পুলিশের মুখোমুখি হয়ে ওই তরুণী নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সেদিন অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁকে জোরপূর্বক কেউ কিছু পান করায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে তাঁর বোনের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরের পর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানায় হাজির হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এই তরুণী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই আতঙ্কজনক ভিডিও ও গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তরুণীটি সরাসরি গণমাধ্যমকে বলেন, “হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো আমাকে জোর করে খাইয়ে দেয় নাই। পারিবারিকভাবে মানসিক চাপের কারণে নিজ বাসাতেই মদ পান করেছিলাম। অচেতন হয়ে পড়লে বাইকে থাকা ওই লোকগুলো আমাকে সাহায্য করতেই এগিয়ে এসেছিল।”

তরুণীর দাবি অনুযায়ী, বাইকের দুই আরোহীকে তিনি ‘চাচা’ হিসেবে চিনতেন। মাতাল হয়ে অসুস্থবোধ করার পর তিনি নিজেই তাঁদের ফোন করেন। তাঁরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি টঙ্গী এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো তাঁর একাধিক বিয়ের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তরুণীটি তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও বিপদে ফেলতে প্রতিনিয়ত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। এই পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মানসিক অশান্তি থেকেই তিনি সেদিন অতিরিক্ত মদ্যপান করে ফেলেন।

জিএমপি-র অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তরুণীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁকে তাঁর বোনের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ভিডিও সূত্রে পুলিশ মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মালিকের পরিচয় শনাক্ত করেছে। ওই দুই আরোহীকে খোঁজা হচ্ছে।

ডিসি জানান, তরুণরা হয়তো আইনি জটিলতার ভয়ে সামনে আসছে না। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে ওই রাতের পুরো ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো অপরাধমূলক ষডযন্ত্র ছিল নাকি কেবলই অসুস্থ তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনা—তা চূড়ান্ত তদন্ত এবং মোটরসাইকেল আরোহী দুজনের জবানবন্দি গ্রহণের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।