হিমালয়কন্যা নেপালে প্রলয়ঙ্করি আকস্মিক বন্যা: প্রাণহানি ৮১০, নিখোঁজ আড়াই হাজার বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ

0
হিমালয়কন্যা নেপালে প্রলয়ঙ্করি আকস্মিক বন্যা: প্রাণহানি ৮০০ ছুঁইছুঁই, নিখোঁজ আড়াই হাজার বিদেশি পর্যটকসহ বহু মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপালে আকস্মিক প্রলয়ঙ্করি বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮১০। রোববার (৩০ আগস্ট) নেপাল পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, টানা কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং বুধবারের পাহাড়ি ঢলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১০ জনে। এই বিপর্যয়ে এখনও অন্তত ২,৫০২ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েকশত বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন।

বন্যাদুর্গত পাহাড়ি এলাকাগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হতাহত ও নিখোঁজের নিখুঁত তথ্য সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। নেপাল পুলিশের তথ্যে ৮১০ জনের মৃত্যু ও আড়াই হাজার নিখোঁজের কথা বলা হলেও, দেশটির ‘জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ’ (NDRRMA) নিহতের সংখ্যা ৭৮১ জন বলে নিশ্চিত করেছে। একাধিক সরকারি সংস্থার তথ্যের এই অসামঞ্জস্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

ট্র্যাকিং ও তীর্থযাত্রার ভরা মৌসুমে এই আকস্মিক দুর্যোগ নেমে আসায় বিপাকে পড়েছেন বিদেশি পর্যটকেরা। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি ভারতীয় নাগরিক।

বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমের সূত্রে পাওয়া নিখোঁজ পর্যটকদের তালিকা:

ভারত: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ মিলছে না।

চীন: চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রায় ১০০ জন নাগরিক নিখোঁজের তথ্য দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন: ৯০০ মিটার উঁচুতে থাকা ট্র্যাকিং রুটগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন এবং ইউক্রেনের ৬২ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।

মালয়েশিয়া: ‘ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর মাধ্যমে ভ্রমণে গিয়ে ৫১ জন মালয়েশীয় পর্যটক পাহাড়ি ধসে আটকে পড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন।

যুক্তরাজ্য ও কানাডা: নেপাল পুলিশের খাতায় ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ। এছাড়া তিব্বত সীমান্তে অতিরিক্ত ১৫ জন ব্রিটিশ ট্র্যাকার নিখোঁজ বলে সিসিটিভি (CCTV) জানিয়েছে। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩০ জন নাগরিকের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জনসহ দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও নিউজিল্যান্ডের বহু নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার হিমালয় অঞ্চলের একাধিক স্থানে ক্লাউডবার্স্ট বা মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, প্রধান সংযোগ সড়ক ও সেতু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সেনাবাহিনী ও নেপাল পুলিশের উদ্ধারকারী দল দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে হেলিকপ্টার ও রোপওয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এবং অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।