আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে প্রবীণ রাজনীতিক ও দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর নিয়োগকে কেন্দ্র করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সাউথ ব্লক) অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বহু বছরের পেশাদার কূটনীতিকদের (আইএফএস) নিয়োগের প্রথা ভেঙে একজন রাজনীতিককে গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব দেওয়ায় ভারতীয় আমলা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর খবরে বলা হয়, বিজেপি সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতে কূটনীতিক বা হাই কমিশনার পদে পেশাদার আমলাদের পাশাপাশি আরও রাজনীতিকদের স্থান দেওয়া হতে পারে। দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় সফল হলে এ নীতির ব্যাপ্তি ঘটবে—এমন আশঙ্কায় সাউথ ব্লকের কেডার ডিপ্লোম্যাটরা চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন।
ঢাকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রবীণ এই রাজনীতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে নতুন হাই কমিশনারের কূটনৈতিক সফলতা রুখতে ভারতীয় আমলাতন্ত্র ও সাউথ ব্লকের একটি প্রভাবশালী অংশ তৎপর বলে অভিযোগ উঠেছে।
দিল্লিতে বসে একশ্রেণীর ভারতীয় আমলা শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের প্রতি বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে সম্পর্ককে জটিল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা ঢাকার মনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে।
ভারত ও বাংলাদেশের বর্তমান স্নায়ুচাপের পেছনে দুই দেশের কাঠামোগত সম্পর্কের চেয়েও ভারতের অভ্যন্তরীণ ‘আমলা বনাম রাজনীতিক’ দ্বন্দ্ব বড় প্রভাব ফেলছে।
দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে তৈরি হওয়া এই দ্বন্দ্ব কেবল সাউথ ব্লকের ভেতরের অসন্তোষ নয়, বরং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সমীকরণেও একটি বড় পরিবর্তন ও নতুন জটিলতার বার্তা দিচ্ছে।

