যশোরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও হুমকি: শিক্ষার্থীদের অনশনে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

0
যশোরে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানি ও হুমকি: শিক্ষার্থীদের অনশনে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের টানা যৌন হয়রানি ও ব্লাকমেইলের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। টানা ক্লাস বর্জন ও অনশনের মুখে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও অনৈতিক বার্তা পাঠিয়ে আসছিলেন। এতে রাজি না হলে শিক্ষার্থীদের স্পর্শকাতর ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতেন তিনি।

লোকলজ্জা ও হুমকির মুখে এতদিন মুখ বুজে সহ্য করতে হলেও সম্প্রতি বিষয়টি সহ্যের সীমা ছাড়ায়। এর আগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বারবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানালেও তিনি রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ ওঠে।

দীর্ঘদিন বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে সোমবার সকালে। অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে একটি শ্রেণিকক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলে। এরপর সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয় চত্বরে অনশন কর্মসূচিতে বসে তারা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মনিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মো. সম্রাট হোসেন (উপজেলা নির্বাহী অফিসার),মাহির দায়ান আমিন (সহকারী কমিশনার – ভূমি), আবু সাইদ (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মনিরামপুর থানা), মোজাফফর হোসেন (ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার)

কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও ফৌজদারি আইনি ব্যবস্থার নিশ্চিত আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অনশন ভঙ্গ করে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষক ইকরামুল ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলায় আইনি প্রক্রিয়া ও রিমান্ডের প্রস্তুতি চলছে।” — আবু সাইদ, (ওসি), মনিরামপুর থানা।

মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সম্রাট হোসেন জানান, “শিক্ষার্থীদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান থাকবে।”

বর্তমানে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।