সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহে তের মাসের বাচ্চা রেখে মায়ের আত্নহত্যা

0
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহে তের মাসের বাচ্চা রেখে মায়ের আত্নহত্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে তের মাসের অবুঝ শিশুকন্যা রেখে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী তামান্না আক্তার জলি(২৬)নামের এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ১৪ (সেপ্টেম্বর)সোমবার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ (সেপ্টেম্বর)রোববার রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের নিউমার্কেট কাঁঠালখাই (পশ্চিমপাড়া) এলাকায় তার পিত্রালয়ে।

মৃতঃতামান্না আক্তার জলি ওই গ্রামের আব্দুল মজিদ ও নাসিমা বেগম দম্পতির মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর পূর্বে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে মারুফ আহমেদের (৩২) সঙ্গে তামান্না আক্তার জলির বিয়ে হয়।তাদের সংসারে আয়াত বেগম নামে ১৩ মাস বয়সি একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তার স্বামী সৌদি আরবে চলে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। একাধিকবার বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসাও করা হয়েছে।

কিছুদিন যাবত পুনঃরায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হলে গত ছয়-সাত দিন আগে জলি তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ঘটনার দিন মোবাইল ফোনে স্বামীর সঙ্গে জলির তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে জলি শোয়ার ঘরের চালের তীরের লোহার আংটার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।এ-সময় তার ১৩ মাস বয়সি শিশুসন্তান চিৎকার করে উঠলে বাবা আব্দুল মজিদসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা দৌড়ে ঘরে যান। তারা জলিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী ওসমানী নগর থানার গোয়ালাবাজারস্থ ডাক্তার ইকবাল মাহমুদের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা মরদেহটি বাড়িতে ফিরিয়ে এনে জগন্নাথপুর থানার পুলিশকে খবর দেন।পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)শফিকুল ইসলাম জানান,খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে আসে।সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।