রামেবি উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে দিল প্রশাসন, আলামত সংগ্রহ

0
রামেবি উপাচার্যের কক্ষের তালা খুলে দিল প্রশাসন, আলামত সংগ্রহ

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যের কক্ষের তালা কেটে খুলে দিয়েছে প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ তালা খোলা হয়। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।

এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তাঁর উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন ও সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ আবিরসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়েছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নির্দেশনায় উপাচার্যকে তাঁর বাসা থেকে সসম্মানে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকা- বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন সমর্থন করে না। দলের কেউ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপাচার্যকে একটি কাগজে জোরপূর্বক সই করানোর অভিযোগ ওঠে।

উপাচার্যের দাবি, কাগজটি পড়ার সুযোগ না দিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে সই করতে বাধ্য করা হয়। পরে তাঁকে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভিডিও-ছবি বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মোঃ নাজমুল হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু উপাচার্যকে তাঁর কক্ষে নিয়ে যাবেন। এরপর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল থেকে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল, যুবদল ও উলামাদলের নেতারাও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ ব্যপারে আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, রামেবির ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতার গ্রেফতারে অভিযান চলছে।