বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের উপকূলে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে পালিয়ে গেছে একটি দস্যু দলের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়, একটি দস্যু দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে সুন্দরবনের শেলা নদীর ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলার একটি চৌকস দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যু দলের সদস্যরা দ্রুত সুন্দরবনের গহিন অরণ্যের দিকে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক বা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দস্যুদের ফেলে যাওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৬টি একনলা বন্দুক, ৩টি এয়ারগান ও ১টি পাইপগানের ট্রিগার। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, সুন্দরবনের দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে দস্যু দলের সদস্যরা গোপনে অবস্থান করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। তাদের সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আগেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন্স) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শওকত আহমেদ জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোংলা থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা, জনগণের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সুন্দরবনের নদী ও দুর্গম বনাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অপরাধী ও দস্যুদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ তৈরি করে আসছে। বিশেষ করে জেলে ও বনজীবীদের নিরাপত্তা এবং বনজ সম্পদ রক্ষায় দস্যু দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও তাজা গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় সুন্দরবনের গহিন এলাকায় দস্যুদের সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী, খাল ও দুর্গম এলাকায় নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে।

