‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স

0
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে প্রেস কনফারেন্স

​চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: দেশের প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং নারীদের সার্বিক ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উদ্যোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম’-এর অবহিতকরণ সংক্রান্ত প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​আজ (১২ অক্টোবর ২০২৬) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে কার্যক্রমটির লক্ষ্য, গুরুত্ব এবং তথ্য সংগ্রহের সার্বিক পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

​নারী কেন্দ্রিক আত্মনির্ভরশীলতার বড় পদক্ষেপ

​প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রকৃত চাহিদা চিহ্নিত করে তাদের রাষ্ট্রীয় সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা। নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।

​তথ্য সংগ্রহের বিশাল কর্মযজ্ঞ

​আজ ১২ অক্টোবর থেকেই সারা দেশে একযোগে সব এলাকার খানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে।

​লক্ষ্যমাত্রা: আগামী ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেশের প্রায় ৪.৪৫ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও সরাসরি অনলাইন ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

​মাঠপর্যায়ে জনবল: সারাদেশে ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬,৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন।

​ডিজিটাল প্রযুক্তি: তথ্য সংগ্রহকারীরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ডিভাইস এবং নিরাপদ সাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি তথ্য ইনপুট দেবেন।

​কারা পাবেন ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা?

​বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রক্সি মিন্স টেস্ট (PMT) পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের সকল পরিবারকে ৫টি ক্যাটাগরিতে (অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত) বিভাজন করা হবে।

​সকল পরিবারে কার্ড: দেশের সকল নারী পরিবার প্রধানই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন।

​ভাতার শর্ত: PMT স্কোরে ৮৬০ বা তার কম নম্বরপ্রাপ্ত অর্থাৎ প্রথম তিনটি ক্যাটাগরির (অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত) নারী প্রধানরা নিয়মিত সরাসরি ভাতা পাবেন।

​চলতি বছরের লক্ষ্য: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন ৪০ লক্ষ নারী পরিবার প্রধানকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ৩ বছরের মধ্যে যোগ্য সকল পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে।

​অত্যাধুনিক স্মার্ট কার্ড ও অর্থ লেনদেন

​ফ্যামিলি কার্ডটিকে একটি যুগান্তকারী ডিজিটাল সমাধান হিসেবে তৈরি করা হয়েছে:

​কার্ডটিতে রয়েছে Dual Chip, QR Code এবং NFC (Near Field Communication) প্রযুক্তি।

​এটি বাংলাদেশ সরকারের TakaPay পেমেন্ট স্কিমের সাথে যুক্ত থাকবে।

​এই কার্ড ব্যবহার করে উপকারভোগীরা যেকোনো এটিএম বুথ, পয়েন্ট অফ সেলস (POS) এবং মোবাইল ব্যাংকিং (MFS)-এর মাধ্যমে খুব সহজেই সরাসরি ভাতা তুলতে পারবেন।

​বিশাল বাজেট ও বিগত সফলতা

​চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সরকার ১৪,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ১২,৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে।

​উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির পাইলট প্রজেক্ট উদ্বোধন করেছিলেন। পাইলটিং পর্যায়ে ৮টি বিভাগের ৪৪টি জেলায় ১,১২,০৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগৃহীত হয় এবং ৭১,৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে সূচক ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছিল।

​প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত কর্মকর্তারা সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য দিয়ে এই মহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সফল করতে সকল স্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।