নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৯ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মোশাহিদুল ইসলাম (৩৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ অক্টোবর) তাকে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মছলন্দপুর এলাকা থেকে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
গ্রেপ্তারকৃত মোশাহিদুল ইসলাম হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার বড়াইল গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁ উপজেলার ‘বারদী মছলন্দপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা’য় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে দারুল উলুম মাদ্রাসার আবাসন কক্ষে ৯ বছরের ওই শিশু শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন শিক্ষক মোশাহিদুল। ভয়ে শিশুটি প্রথমে ঘটনাটি চেপে গেলেও শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ট্রমার কারণে রোববার বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।
ঘটনাটি জানার পর রোববারে বিকেলেই ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনাটি এলাকায় রাষ্ট্র হলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারগাঁ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক জানান “শিশু বলাৎকারের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (মামলা নং-২৪) রজু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসকের পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে বিজ্ঞ বিচারকের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে শিশুটির ওপর এমন নৃশংস নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

