সাজেকে ইউপিডিএফের গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মানবঢাল বানিয়ে সড়ক অবরোধ: নিরাপদে উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

0
সাজেকে ইউপিডিএফের গুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মানবঢাল বানিয়ে সড়ক অবরোধ: নিরাপদে উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

বিশেষ প্রতিনিধি: রাঙামাটির সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে জোরপূর্বক ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে সড়ক অবরোধ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইউপিডিএফ)। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সময়োপযোগী যৌথ অভিযানে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার করে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুরো ঘটনাটিকে ইউপিডিএফের একটি পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা বলে অভিহিত করেছে সেনাবাহিনী।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সাজেক-বাঘাইহাট প্রধান সড়কে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা ব্যারিকেড ও অবরোধ তৈরি করায় সাজেক ভ্রমণে আসা আনুমানিক ৩,০০০ পর্যটক আটকা পড়েন। পর্যটকদের জীবন ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি অভিমুখে তাঁদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল দল।

সকাল ১০টার দিকে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলে পুনরায় বাধা সৃষ্টি করে ইউপিডিএফ সমর্থিত অবরোধকারীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতের লক্ষ্যে সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দল অবরোধকারীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আলোচনার উদ্যোগ নেয়।

আলোচনা চলাকালীন সকাল পৌনে ১১টার দিকে ইউপিডিএফের প্ররোচনায় অবরোধকারীরা আকস্মিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনী মৃদু লাঠিপেটা করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং পুনরায় যানবাহন চলাচলের পরিবেশ তৈরি করে।

এর পরপরই, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র ক্যাডাররা সাধারণ মানুষকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। পর্যটকদের জীবন রক্ষা ও আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীর টহল দল তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পিছু হটে এবং দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অত্যন্ত পেশাদারত্বের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় এ ঘটনায় কোনো পর্যটক বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য হতাহত হননি।

আইএসপিআর জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানের কারণে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ। নিজেদের অবস্থান জানান দিতে এবং কোণঠাসা অবস্থা থেকে বাঁচার কৌশল হিসেবে সংগঠনটির সশস্ত্র সদস্যরা পর্যটন এলাকাকে বেছে নিয়ে অবস্থান নিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, সাধারণ নিরীহ পাহাড়িদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অবরোধে বাধ্য করা এবং চরম নিরাপত্তাহীনতার মাঝে তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আইএসপিআর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এ ধরনের উসকানিমূলক ও সহিংস কর্মকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। এতে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক উৎস পর্যটন শিল্প যেমন হুমকির মুখে পড়ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকাও ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সর্বসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে সেনাবাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী অঙ্গীকারবদ্ধ।