
বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের দুদিন পর, আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্যদিকে, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ দাবি করেছেন—ধাওয়ার মুখে প্রাণ বাঁচাতে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফ সৌরির মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই প্রধান জানান, যেখান থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, তার থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়। তবে পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানিয়েছেন, গাড়িটি নিখুঁতভাবে তাহসিফের কি না এবং সেখানে এটি কীভাবে পৌঁছাল, তা প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। নৌপুলিশের এই তদন্তে সার্বিক সহায়তা করছে পিবিআই।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পরিচিত ও বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন ২৮ বছর বয়সী তাহসিফ। এর পরদিন বুধবার বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ী ঘাট এলাকার তুরাগ নদ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নদী পুলিশ। পকেটে থাকা আইফোন ও হাতের ঘড়ির সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোড থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান “আমরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। এ সময় হঠাৎ কিছু লোক এসে আমাদের ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়, আর আমি সেখান থেকে পালিয়ে যাই।”
পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল জানান, দীপকে জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মামলার স্বার্থে এবং তদন্তের গতি বজায় রাখতে এখনই সবকিছু প্রকাশ করা হচ্ছে না। দীপের দেওয়া এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম তার ছেলের মৃত্যুকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার নাক দিয়ে রক্ত বের হলেও শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তবে পেট ফোলা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে যে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি বহুল আলোচিত ‘ভিডিও’ ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে তাহসিফ জড়িত ছিলেন। তবে এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা পূর্বপরিকল্পিত শত্রুতা রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হোক।
