আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলের ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ পার্টি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নির্বাচন শেষ হতেই আরব-ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদানে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই পদক্ষেপকে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক “অসৎ কৌশল” এবং জনগণের রায়কে ভণ্ডুল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা।
নেতানিয়াহু ও তার জোটের শীর্ষ নেতাদের দাবি, ফিলিস্তিনি বা আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে কোটি টাকার বিদেশি অর্থায়নে ভোট কেনাবেচা এবং অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে। এতে কাতার ও তুরস্কের মতো দেশের যোগসাজশ থাকতে পারে বলে লিকুদ পার্টি ইঙ্গিত দিলেও কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেশটির নির্বাচন কমিটির প্রধান বিচারপতি নোয়াম সোহলবার্গ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত (Shin Bet)-কে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বললেও, সাধারণ ভোটার বা ফলাফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যেন কোনো ভিত্তিহীন কলঙ্ক না ছড়ানো হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সংস্থাটিও জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোট দেওয়া সাধারণ নাগরিকদের ওপর এই তদন্ত কোনো ছায়া ফেলবে না।
প্রধান বিরোধী জোট ‘ইয়াশার’-এর নেতা এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন “নেতানিয়াহু এবং তার দল লিকুদ ভালো করেই জানে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে হার মেনে নিতে পারছে না। তাই গণতান্ত্রিক ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করতে তারা সুপরিকল্পিত মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন।”
এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এবং দেশটির শীর্ষ পুলিশ ও নির্বাচন কর্মকর্তারাও নেতানিয়াহুর অভিযোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেন, “এ জাতীয় অলীক অভিযোগ একটি পুরো সম্প্রদায়কে অসম্মান করে।”
নেতানিয়াহু সোশাল মিডিয়া ও দলীয় বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর হামলা’ এবং ইসরায়েলে ‘ডানপন্থি শাসনের পতন ঘটিয়ে ইসলামীকরণের ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তবে শুক্রবার ভোরে ঘোষিত সিইসির (CEC) ফলাফল অনুযায়ী নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট ৫৩টি আসন, আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন, আরব দল (জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম) ১৯টি আসন (রেকর্ড বিজয়)
নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কোনো পক্ষই একক বা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায়, মূলত ১৯টি আসন পাওয়া আরব দলগুলোই এখন ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের ভাগ্য নির্ধারণী (Kingmaker) অবস্থানে চলে এসেছে।
আগামী সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের পর শুরু হবে দলগুলোর মধ্যে নাটকীয় সমঝোতার দৌড়ঝাঁপ। সমঝোতা ব্যর্থ হলে দেশটিতে ফের আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
(সূত্র: উইয়ন নিউজ, টাইমস অব ইসরায়েল, হিন্দুস্তান টাইমস)

