জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিমান ঢাকায়: ডানায় যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

0
জাপান সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিমান ঢাকায়: ডানায় যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় বিমানের তদন্ত কমিটি গঠন

বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ জাপানে চারদিনের সফল দ্বিপক্ষীয় সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি (বিজি ৩৭৭) নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

জাপানের টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে উড়োজাহাজটির ডানায় কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় এই বিলম্ব ঘটে। ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্তে উচ্চপর্যায়ের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

অবতরণের পর আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিমান বন্দরে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতির বর্ণনা দেন। তিনি বলেন “উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে কোনো ত্রুটি ছিল না, মূল সমস্যাটি ছিল উইংস বা ডানায়। প্রকৌশলীরা দ্রুতই তা মেরামত করেন। ত্রুটির খবর ছড়িয়ে পড়লে বিমানে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ শান্ত ছিলেন। তিনি চাইলেই অন্য কোনো বিমানে বা জাপানে থেকে যেতে পারতেন, কিন্তু তিনি সফরসঙ্গীদের ছেড়ে আসেননি। তিনি সবাইকে অভয় দেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন সবাইকে নিয়েই একসাথে দেশে ফিরবেন।”

তিনি আরও জানান, বিমানটিতে থাকা শিশুদের মানসিক স্বস্তি দিতে এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন এবং ভয় তাড়াতে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত টোকিও সফর করেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইটের উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়।

পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম এবং নারিতা বিমানবন্দরের প্রবীণ টেকনিশিয়ানরা যৌথভাবে ত্রুটি মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেন। প্রায় সাড়াবেলা মেরামতের কাজ শেষে নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাড় ৫ ঘণ্টা পর, বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৩ মিনিটে প্লেনটি পুশব্যাক করে এবং ৭টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রানওয়ে ত্যাগ করে।

উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার মূল কারণ অনুসন্ধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ।

কমিটির রূপরেখা ও কার্যপরিধি:

প্রধান: বিমানের চিফ (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিডিউলিং)। সদস্যবৃন্দ: চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাকশন), ডেপুটি চিফ (ফ্লাইট সেফটি) এবং সদস্যসচিব হিসেবে ব্যবস্থাপক (আইনবিষয়ক)। মূল কাজ: উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা, উড্ডয়ন উপযোগিতা নিশ্চিতের পদক্ষেপসমূহ পর্যালোচনা এবং এই বিলম্বের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে তা নিরূপণ করা।

গঠিত তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।