বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরি (২৭) হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। রহস্যজনক এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও মূল চক্রকে শনাক্ত করতে তদন্তকারী সংস্থা নৌ পুলিশকে এই সময় দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে মামলার শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ঢাকার কাফরুল থানা এলাকার নিজ বাসা থেকে রোববার গভীর রাতে (রাত আনুমানিক ২টা) দিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানান নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন ও এর পূর্বাপর ডিজিটাল নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে আসামি দিশার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ অবস্থান করেছিলেন দিশা।
এর আগেও এই দুজন একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’-এ যান এবং মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততায় ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে দিশাকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের স্থান ও সুনির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ নির্ধারণ, ঘটনার আলামত উদ্ধার, নেপথ্যে থাকা অজ্ঞাত সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং প্রথম গ্রেপ্তারকৃত আসামি দীপের দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে দিশার বক্তব্য মুখোমুখি রেখে (ক্রস-চেক) নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঘনিষ্ঠ ছোট ভাই দীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের টঙ্গী রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে ভেসে ওঠা অবস্থায় তাহসিফের নিথর দেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
নিখোঁজের দিন রাতের একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখেছে, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ওই বার ও রেস্টুরেন্টে একটি মোটরসাইকেলে চেপে আসেন তাহসিফ ও দিশা। এর কিছুক্ষণ পরই পৃথক মোটরসাইকেলে সেখানে হাজির হন দীপ।
এরপর লিফটের সামনে তাহসিফ ও দিশা অপেক্ষা করতে থাকেন এবং হেলমেট পরিহিত দীপ এসে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। দেড় ঘণ্টা রেস্টুরেন্টে অবস্থান শেষে রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তিনজনকে একসঙ্গে বের হতে দেখা যায়।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন—বর্তমানে সেই রহস্য ভেদ করতেই হন্যে হয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে তদন্তকারী দল।
উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাহসিফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তাঁর ছোট ভাইতুল্য বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। দিশা ও দীপকে মুখোমুখি এনে জিজ্ঞাসাবাদে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল মোটিফ উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

