গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ, কারখানায় আগুন ও দফায় দফায় সংঘর্ষ

0
গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের তীব্র বিক্ষোভ: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ, কারখানায় আগুন ও দফায় দফায় সংঘর্ষ

গাজীপুর প্রতিনিধি: ন্যূনতম মাসিক মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা করার এক দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর। আন্দোলনে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতা চালিয়েছেন বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবস্থিত ‘মন্ডল গ্রুপ’-এর একটি কারখানায় আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাধিক কৌশলগত পয়েন্টে জড়ো হতে থাকেন শ্রমিকেরা। বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও কাঠ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন।

এই অবরোধের ফলে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে শুরু করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়। ঢাকামুখী ও উত্তরবঙ্গগামী দূরপাল্লার শয়ে শয়ে যানবাহন স্থবির হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে আটকে থেকে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।

অবরোধ ছড়িয়ে পড়লে ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নামে। এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

দুপুরের দিকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একাধিক টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড-ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রণক্ষেত্রে রূপ নেয় মহাসড়ক এলাকা।

শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া রোধে এবং জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে চন্দ্রা, সফিপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত ২০টি পোশাক কারখানা রোববারের জন্য সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। কারখানাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাইওয়ে ও জেলা ট্রাফিক পুলিশ জানায়, অবরুদ্ধ মহাসড়ক সচল করতে তারা সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে চন্দ্রা ত্রিমোড় ও সফিপুর এলাকায় শ্রমিকদের বিচ্ছিন্ন অবস্থানের কারণে গাড়ি চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।