হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘দুই দিনের ফর্মুলা’: মার্কিন চাপের মুখেও অন্যায্য দাবি না মানার ঘোষণায় তেহরান

0
হরমুজ প্রণালি খুলতে ‘দুই দিনের ফর্মুলা’: মার্কিন চাপের মুখেও অন্যায্য দাবি না মানার ঘোষণায় তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ সামরিক শক্তি প্রদর্শন বা আগ্রাসন চালিয়ে ইরানকে কখনোই আত্মসমর্পণে বাধ্য করা সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চলমান চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট জানান, যুদ্ধে কারও লাভ হবে না। তবে কূটনীতির দরজা খোলা রাখতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সরকারকে বিশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে তেহরান আন্তরিক হলেও শত্রুপক্ষের কোনো অন্যায্য ও মিথ্যা দাবি মেনে নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় চালু করা নিয়ে এক নতুন দুই দিনের রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানান। তিনি জানান:

প্রথম দিন: যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া মৌলিক শর্তগুলো পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্বিতীয় দিন: মার্কিন পদক্ষেপ নিশ্চিত হলে ইরান অবিলম্বে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেবে।

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পদ্ধতিগত আলোচনার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সামনে চারটি প্রধান শর্ত উপস্থাপন করেছে- ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ইরানি তেল রপ্তানিতে দেওয়া ছাড় পুনরায় বহাল করা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস করা।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে যে কোনো সম্ভাব্য হুমকির কড়া জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ভৌগোলিক সীমা বা কোনো শর্তে না বেঁধে শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনে সরাসরি আঘাত হানার পূর্ণ প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সামরিক শক্তিকে।

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে এই কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সূত্র ও ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি চান মার্কিন নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালায়।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের জন্য আরও কিছু সময় দিতে আগ্রহী বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।