নাওজোড়ে বর্জ্যে আগুন দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক স্তব্ধ: সড়কে ক্রিকেট খেলছেন শ্রমিকরা, যানবাহন চলাচল বন্ধ

0
নাওজোড়ে বর্জ্যে আগুন দিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক স্তব্ধ: সড়কে ক্রিকেট খেলছেন শ্রমিকরা, যানবাহন চলাচল বন্ধ

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাকে শ্রমিকদের অবরোধের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই নাওজোড় এলাকায় নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। কালিয়াকৈরে সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন নাওজোড় মোড়ে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছেন বকেয়া ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনের মহাসড়কে জড়ো হন কয়েক শত শ্রমিক। তারা সড়কের পাশের স্তূপীকৃত বর্জ্য টেনে এনে মহাসড়কের ওপর ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন।

আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এসময় জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের পাশাপাশি অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চলাচলেও কড়া বাধা দেন আন্দোলনকারীরা। মহাসড়ক ফাঁকা করে সেখানে অনেক শ্রমিককে ব্যাটে-বলে ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি কাভার করতে ঘটনাস্থলে থাকা বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে শ্রমিকদের তোপের মুখে পড়েন। তারা সাংবাদিকদের কোনো তথ্য বা বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন এবং ছবি বা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে বাধা দেন।

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বরত কারও সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে সকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছিলেন, সকাল ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কিছু শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী কোনো সংঘাত ছাড়াই বুঝিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করার কথা বলা হলেও নাওজোড়ে হঠাৎ করে এভাবে বর্জ্যে আগুন দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।