ছবি-ভিডিও পাঠালেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা: মিরপুরে গার্মেন্টসে নাশকতায় আ’লীগের কোটি টাকার মিশন, গ্রেপ্তার ৫০

0
ছবি-ভিডিও পাঠালেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা: মিরপুরে গার্মেন্টসে নাশকতায় আ’লীগের কোটি টাকার মিশন, গ্রেপ্তার ৫০

এনামুল হকঃ ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় সহিংসতা ছড়ানোর নেপথ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩ প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে উন্মোচিত হয়েছে বিস্ফোরক তথ্য—বিদেশে পলাতক এসব নেতা ও তাদের সহযোগীরা কোটি টাকার বাজেট দিয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেশে নাশকতায় ইন্ধন জোগাচ্ছেন।

সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত ১০ হাজার জনকে আসামি করে মিরপুরের ৩ থানায় ৫টি মামলা করেছে পুলিশ।

ডিবির তদন্ত অনুযায়ী, মিরপুর ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ও সহিংসতা উসকে দিতে টাকার জোগাড় পাঠাচ্ছেন ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্: ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

এস এম মান্নান কচি: ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি।

জাহাঙ্গীর আলম: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট থেকে আত্মগোপনে থাকা এই তিন নেতার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ডিবি সূত্র জানায়, আটককৃতদের মোবাইল ও মেসেজিং অ্যাপ (২০-২৫টি গোপন অনলাইন গ্রুপ) বিশ্লেষণ করে পাওয়া গেছে সুনির্দিষ্ট দর ও শর্ত:

গাড়ি বা স্থাপনায় আগুন দিলে: ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা।

ড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করলে: ৩,০০০ টাকা।

শ্রমিকদের মিছিলে অংশ নিলে: ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা।

অর্থ পাওয়ার প্রধান শর্ত: ধ্বংসাত্মক কাজের প্রমাণ হিসেবে তাৎক্ষণিক ভিডিও বা ছবি পলাতক নেতাদের কাছে পাঠানো। একাধিক আসামির মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই এ অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ মিলেছে।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, আওয়ামী লীগের পতনের পর নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকায় দিনমজুর বা পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে থাকা নোয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধার প্রায় ১৫০ জন তৃণমূল নেতাকর্মীকে এই নাশকতায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঢাকায় এ অপতৎপরতার সমন্বয়ে কাজ করছে ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লা, জাহাঙ্গীরের সহযোগী মাহবুবুর রহমান জুয়েল, মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শুভ এবং রূপনগর আওয়ামী লীগের সদস্য কামাল গাজী। তাদের মধ্যে জুয়েল ও কামাল গাজীকে ইতোমধ্যেই ডিবির টিম মিরপুর-১২ থেকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত রোববার মিরপুর-১০ নম্বর থেকে শ্রমিক সংঘর্ষের সুযোগ নিয়ে ইলিয়াস মোল্লার ভাগ্নে আলিফ মোল্লার নির্দেশে নেতাকর্মীরা মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে জড়ো হয়। সেখানে টহলরত পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং তাৎক্ষণিক ভিডিও আলিফের কাছে পাঠানো হয়।

এ ছাড়া, পল্লবী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তারকৃত রাজিব চন্দ্র দাস (শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী ও প্যারাগন গ্রুপের ম্যানেজার) ফেসবুকে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে পোস্ট দেওয়ায় উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সচিবালয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সাথে জরুরী বৈঠক শেষে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন “পতিত স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া কিছু চক্র নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধ করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে। অডিও-ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে ইন্ধনদাতা ও জড়িত শিল্পমালিকদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

ডিএমপির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, নাশকতাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।