সাইফুল ইসলাম কবিরঃ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলাকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯নং জেটিতে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাগেরহাটের মোংলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লজিস্টিকস কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গতিশীলতা সৃষ্টি করবে।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন যে, মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত একটি আধুনিক সড়ক যোগাযোগ ও শিল্পাঞ্চল রুট গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি মোংলা অঞ্চলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কথা মাথায় রেখে শিল্পায়নে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মোংলা বন্দরের ১০ ও ১১ নম্বর জেটি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে।
প্রাক্কলিত ব্যয়: ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাস্তবায়নকাল: চার বছর।
প্রধান অবকাঠামো: দুটি আধুনিক জেটি, কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং ইয়ার্ড, বিপজ্জনক কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড এবং ৪৯টি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।
চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নিরাপদে কন্টেইনার সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার সংকট স্থায়ীভাবে নিরসন হবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্রকল্পের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশস্থ চীনা দূতাবাসের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক কাউন্সেলর এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান ডেই হেগেন। আরও বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। নৌপরিবহন সচিব আতাউর রহমান খানের সমাপনী বক্তৃতার মাধ্যমে আলোচনা পর্ব শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন ফারুক ও অন্যান্য সদস্যরা, এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।
ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলের পাশে একটি বৃক্ষরোপণ করেন। পরে সদ্য উদ্বোধন করা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন এবং দেশ ও জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

