৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পরীমনির, আদালত প্রাঙ্গণে ‘ব্যাড টাচ’ অভিযোগ ও হট্টগোল

0
৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন পরীমনির, আদালত প্রাঙ্গণে 'ব্যাড টাচ' অভিযোগ ও হট্টগোল

আদালত প্রতিবেদকঃ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, সাভারের বোট ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঠিক পরদিনই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের বিতর্কিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ১০ জন সশস্ত্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী (বডিগার্ড) নিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হন তিনি। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে জামিন পেলেও আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়ার সময় তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা। গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে ‘ব্যাড টাচ’ (অশালীন স্পর্শ) করেছেন বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মেজাজ হারান এই অভিনেত্রী এবং সেখানে উপস্থিত এক সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা বাউন্সার ও বডিগার্ডরা উপস্থিত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে কেড়ে নেওয়া ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আত্মসমর্পণ করতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১০ জন বডিগার্ড পরিবেষ্টিত হয়ে সাদা রঙের একটি গাড়িতে আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান পরীমনি। গাড়িটি চত্বরে রেখে প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি ভেতরেই অবস্থান করেন। বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন।

এ সময় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা এজলাসের ভেতরে সংবাদকর্মীদের প্রবেশে বাধা দেন এবং আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী, সাংবাদিক ও বিচারপ্রার্থীদের ধাক্কাধাক্কি করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালান। বাউন্সারদের এমন উগ্র ও আক্রমণাত্মক আচরণে আদালত এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন পরীমনি আদালতে অনুপস্থিত থেকে তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময় প্রার্থনা করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত গুরুতর অসুস্থতার কারণে পরীমনি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।

তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল সময় আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের বিচারকার্য বিলম্বিত করছেন। শুনানি শেষে আদালত সময় আবেদন নাকচ করে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। পরোয়ানার খবর পেয়ে পরদিনই দ্রুত আদালতে আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন পরীমনি।

উলেখ্য, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর জেরে ২০২২ সালের ৬ জুলাই ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তার দুই সহযোগী—ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এজাহারের থেকে জানা যায় রাত ১২টার পর ক্লাবে প্রবেশ করে বিনামূল্যে দামি অ্যালকোহল (ব্লু লেবেল) পার্সেল নেওয়ার চেষ্টা করেন পরীমনি। সচ্ছল পরিবেশ বজায় রাখতে না দেওয়ায় বার ও ক্লাব প্রাঙ্গণে তাণ্ডব চালানো হয়।

বাদীর দিকে একটি কাচের সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয়, যা নাসির উদ্দিনের মাথা ও বুকে লেগে জখম সৃষ্টি করে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীর্ঘ তদন্ত শেষে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পরীমনি সহ অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। প্রসঙ্গত, এর আগেও বিচার প্রক্রিয়ার সময় অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০২৫ সালের ২৬ জুন একই মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে আরও একবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যা তিনি পরবর্তীতে আত্মসমর্পণ করে জামিনে মুক্ত হন।

অন্যদিকে, ২০২১ সালের ১৪ জুন পরীমনি নিজেই নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমিকে অভিযুক্ত করে সাভার থানায় ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার আলাদা একটি মামলা করেছিলেন, যা এখনো আদালতে বিচারাধীন।