
আদালত প্রতিবেদকঃ জামিন পাওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণ ছাড়ার সময় আবারও বিতর্কে জড়ালেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। মারধর ও ভাঙচুরের মামলায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার সময় ভিডিও ধারণ করা নিয়ে এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার চরম বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং ট্রাইপড ভেঙে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আজকের বাংলাদেশকে ওই সাংবাদিক জানান, লিফটে ওঠার সময় ভিডিও করার জেরে পরীমনি হঠাৎ তার ওপর চড়াও হন এবং হাত থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়ে ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন। অন্যদিকে, পরীমনির দাবি—গাড়িতে ওঠার সময় ওই ব্যক্তি তার গায়ে হাত (অশালীন স্পর্শ) দিয়েছেন। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বলেন, “আমি শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম, গায়ে হাত দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। উল্টো তিনিই আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন।”
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সাদা রঙের একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে আসেন পরীমনি। এরপর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী (বডিগার্ড) ও সহকারীদের একটি দল তাকে ঘিরে ধরে গাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা তার জামিনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। ঠিক তখনই প্রায় ৩০ সেকেন্ডের একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িতে ওঠার ঠিক আগমুহূর্তে এক ব্যক্তির দিকে তেড়ে যান পরীমনি। ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বলতে শোনা যায়— “কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়, সাহস দেখায়! তুই আমার গায়ে হাত দিয়েছিস ক্যান?”
এ সময় অভিযুক্ত সাংবাদিক উচ্চস্বরে বলতে থাকেন, “আমি আপনার গায়ে হাত দেব কেন? আমি তো শুধু ভিডিও করছি।” কিন্তু পরীমনির সঙ্গে থাকা বাউন্সার ও সহকারীরাও ওই সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন এবং পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উপস্থিত লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে পরীমনি দ্রুত গাড়িতে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা বোট ক্লাব ভাঙচুর, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলাটিতে এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে উপস্থিত না থাকায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন বিচারক। ওই আদেশের মাত্র একদিন পর বৃহস্পতিবার আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন নেন এই অভিনেত্রী।
জামিন পাওয়ার পর আইনি জটিলতা থেকে সাময়িক মুক্তি মিললেও আদালত চত্বরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোল ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনাটি নতুন করে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
