স্ত্রী সম্পর্কে ‘কুপ্রস্তাব’ দেয়ায় বন্ধুর হাতে খুন হতে হয় ফাহিমকে

0
চট্টগ্রাম
স্ত্রী সম্পর্কে ‘কুপ্রস্তাব’ দেয়ায় বন্ধুর হাতে খুন হতে হয় ফাহিমকে

আহসান হাবিব: নগরীতে সাখাওয়াত হোসেন ফাহিম (২১) নামে যুবককে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। স্ত্রী সম্পর্কে বাজে কথা বলায় ক্ষোভ থেকে ঘনিষ্ট বন্ধু মো. আরিফই সাখাওয়াত হোসেন ফাহিমকে ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে খুন করেন। আরিফকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২৩ আগস্ট সকালে নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোডের একটি ভবনের পরিত্যাক্ত পানির ট্যাংক থেকে ফাহিমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মরদেহে বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে ওই লাশটি ফাহিমের বলে শনাক্ত করে পরিবারের সদস্যরা। নিহত ফাহিম ডিসি রোডের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। গ্রেপ্তার আরিফ চকবাজার থানার ডিসি রোডের আবু কলোনির বাসিন্দা মো. খোকনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, সাখাওয়াত হোসেন ফাহিম ও মো. আরিফ দুই বন্ধু, তারা প্রায় সময় আড্ডা দিত। ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকি ও ভাড়াটিয়া বিপ্লব দে’র রুমেও আড্ডা দিত তারা। আড্ডাতে ইয়াবা সেবন করতো এবং প্রায় সময় আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতো ফাহিম। ফাহিম আরিফের স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চাইতেন। এ নিয়ে আরিফের মনে ক্ষোভ জন্মে। তাই ফাহিমকে গলা কেটে খুন করেন আরিফ।

গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি’র উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান বলেন, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ভোলার রতনপুর থেকে আরিফকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলায় ক্ষোভ থেকে মূলত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে আরিফ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আরিফ। আরিফ দাবি করেছে- সে একাই এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত।

উপ-কমিশনার মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার দুইদিন আগেও আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলে ফাহিম। আরিফের কাছে ফাহিম বলেন- তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চান। ওইদিনের পর আরিফ ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে আরিফ বাসা থেকে একটি কাঁথা ও একটি ছুরি নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সাড়ে সাড়ে ৮টার দিকে গলির মুখে দাঁড়িয়ে শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে ফাহিমকে ফোন করে ওখানে আসতে বলে। ফাহিমের আসতে দেরি হওয়ায় শাহজাহান আরেকজনের মোবাইল থেকে ফের ফোন করে। ফাহিম আসলে তাকে নিয়ে পানির টাংকির ওখানে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য বসে। একপর্যায়ে ফাহিমের গলায় ছুরি বসায় আরিফ। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ফাহিমের বুকে, পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পরিত্যক্ত পানির ট্যাংকে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় আরিফ। ঘটনার তিন দিন পর ২৩ আগস্ট ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ফাহিমকে হত্যার পর আরিফ ভোলা সদর থানার রতনপুরে খালার বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। আরিফকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।