শিক্ষকের লাঠির আঘাতে ভেঙে গেল ছাত্রীর ঘাড়ের স্নায়ু ,আরেক ছাত্রীর পাজর ফেটে যায়

0
 শিক্ষকের লাঠির আঘাতে ভেঙে গেল ছাত্রীর ঘাড়ের স্নায়ু ,আরেক ছাত্রীর পাজর ফেটে যায়

জি.এম.মিন্টু: শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্ব গঠনের মহৎ পেশা। কিন্তু যখন সেই শিক্ষকই অমানুষে পরিণত হন, তখন সমাজের বিবেক কেঁপে ওঠে। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ডুমুরখালী দাখিল মাদ্রাসায়। ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জহুরুল ইসলামের লাঠির আঘাতে দশম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা খাতুন (১৫)-এর ঘাড়ের স্নায়ু ভেঙে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার স্কুলে ক্লাস চলাকালিন সময়ে।

মাত্র পাঠ মুখস্থ না বলতে পারার অপরাধে শিক্ষক জহুরুল ইসলামের হাতে নির্মমভাবে মারধরের শিকার হয় সুমনা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। দুই দিন ধরে ব্যথায় কাতর সুমনা খাবার খেতে পারছে না, ঘাড়ে নড়াচড়া করতে পারছে না, আর বমি করছে ক্রমাগত।

আহত সুমনার দাদা আব্দুল সামাদ মোল্লা জানান, ঘটনার পর ওই শিক্ষক তার সহকর্মীদের নিয়ে আমার বাড়িতে এসে একাধিকবার ক্ষমা চাইতে এসেছে। আমার ছেলের মেয়ের চিকিৎসার জন্য সে এখন পর্যন্ত মাত্র চার হাজার টাকা দিয়েছে। কিন্তু তার ওই টাকার চেয়ে বড় ক্ষতি করেছে আমার নাতনির জীবন।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে, একই মাদ্রাসায় এর আগেও একই শিক্ষক জহুরুল ইসলামের লাঠির আঘাতে স্থানীয় আব্দুল বারেকের মেয়ে, দশম শ্রেণির আরেক ছাত্রী, গুরুতর আহত হন। তার পাজরের হাড় ফেটে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ জহুরুল ইসলামের আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ, তিনি ছাত্রছাত্রীদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং বিশেষ করে ছাত্রীদের প্রতি অশোভন আচরণ করেন।

স¤প্রতি ওই শিক্ষক এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে গ্রামবাসী তাকে ধরে উত্তম-মাধ্যম দেয়। এরপরও কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, জহুরুলের মামা ওই মাদ্রাসার সভাপতি। সেই প্রভাবেই প্রশাসন নীরব। এই নীরবতা এখন প্রশ্নের মুখে ন্যায়ের পক্ষে, না অন্যায়ের আশ্রয়দাতা ?

মনিরামপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম জিল্লুর রশিদ বলেন, স্কুল বা মাদ্রাসায় লাঠি নিয়ে যাওয়ার কোনো বিধান নেই। ওই শিক্ষক যে কাজটি করেছেন তা অমানবিক। আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

অভিভাবক সমাজ ও এলাকাবাসী বলছেন, একজন শিক্ষক যখন ছাত্রীর ঘাড় ভেঙে দেয়, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং গোটা শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আঘাত। শিক্ষকের এমন অমানবিক আচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, শিক্ষকরা যদি শ্রেণিকক্ষকে নির্যাতনের আস্তানায় পরিণত করেন, তাহলে শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় নাগরিক সংগঠনগুলো এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষকের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেন, সুমনার কান্না শুধু এক ছাত্রীর নয়, এটি গোটা জাতির বিবেকের আহ্ববান। আমরা চাই শিক্ষা হোক ভালোবাসা ও আলোর উৎস, ভয় আর নির্যাতনের নয়। ঘটনার পর গ্রামজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন এক শিক্ষকের লাঠিতে শুধু ছাত্রীর ঘাড়ই নয়, ভেঙে গেছে আমাদের মানবতা।