নওগাঁয় নির্বাচনী গণসংযোগে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১০: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

0
নওগাঁয় নির্বাচনী গণসংযোগে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১০: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ইউনিয়নের মাখনা কোমলগোটা গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে সদর আসনের জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আ স ম সায়েমের সমর্থনে মাখনা কোমলগোটা এলাকায় গণসংযোগ চলছিল। প্রচার শেষে জনৈক জামায়াত কর্মীর বাড়িতে খাবারের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, পাশের গোপাই গ্রামের বিএনপি কর্মীরা সেখানে গিয়ে খাবারের ভিডিও ধারণ করতে গেলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর উত্তেজিত বিএনপি কর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ঘটনা নিয়ে দুই দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা একে অপরকে দায়ী করেছেন:

উপজেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, “আমাদের প্রার্থী বিশ্রামে থাকাকালীন বিএনপির সন্ত্রাসীরা পাইপ নিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের ৮ জন কর্মী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।”

জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “জামায়াতের অভিযোগ ভিত্তিহীন। অতীতে আমাদের প্রার্থীর খাবারের আয়োজনে জামায়াত বাধা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়েছিল। আজ তারা খাবারের আয়োজন করলে আমাদের ছেলেরা ভিডিও করতে যায়। তখন জামায়াতের লোকজনই হামলা চালিয়ে আমাদের দুজনকে আহত করে এবং মোবাইল ভাঙচুর করে।”

নওগাঁ সদর থানার ওসি নিয়ামুল হক জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে সবাই সরে গেছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”