কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ প্রাণহানি: তদন্ত কমিটি গঠন ও দুই গেটম্যান বরখাস্ত

0
কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ প্রাণহানি: তদন্ত কমিটি গঠন ও দুই গেটম্যান বরখাস্ত

কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লেভেল ক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। ঘটনার পরপরই রেলওয়ের দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস লাইনে উঠে পড়ে। ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায়। এতে দুমড়েমুচড়ে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান, পরে উদ্ধার অভিযান চলাকালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।

রোববার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে নিহত ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন, মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩), সোনাইমুড়ী, নোয়াখালী। লাইজু আক্তার (২৬) এবং তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪), মহেশপুর, ঝিনাইদহ। সোহেল রানা (৪৬), জীবননগর, চুয়াডাঙ্গা। সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), চৌগাছা, যশোর। নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), সুধারাম, নোয়াখালী। সায়েদা (৯), লক্ষ্মীপুর সদর। জোয়াদ বিশ্বাস (২০), ঝিনাইদহ সদর। ফচিয়ার রহমান (২৬), মোহাম্মদপুর, মাগুরা। তাজুল ইসলাম (৬৮), কচুয়া, চাঁদপুর।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই গেটম্যানকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে দাফন ও জরুরি সহায়তার জন্য ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলেও। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে মন্ত্রীকে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুরোধ জানাচ্ছেন।

ফোনে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এই পদুয়ার বাজার ব্যারিকেডে লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ভাই। গত ১০০ বছর ধরে এসব ঘটছে, কেউ বিচার করে না।” জবাবে রেলমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে জানান, তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ৫ ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের সমন্বিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার কাজ চলে। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইঞ্জিন সরিয়ে নেওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।