রাঙ্গাবালীতে স্ত্রীর সঙ্গে কলহে তরুণের আত্মাহুতির চেষ্টা, বাঁচাতে গিয়ে বাবার শরীর দগ্ধ ‎ ‎

0
রাঙ্গাবালীতে স্ত্রীর সঙ্গে কলহে তরুণের আত্মাহুতির চেষ্টা, বাঁচাতে গিয়ে বাবার শরীর দগ্ধ ‎ ‎

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেছেন শাওন হাওলাদার (২২) নামে এক তরুণ।

‎এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মো. হারুন হাওলাদার (৫০) গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।পুড়েগেছে শরীরের বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ণ অংশ পুড়ে গেছে। ‎বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে গেলে এমন দাবি করেন দগ্ধ হারুন ও তার পরিবার। তবে স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, শাওন তার বাবার শরীরেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ছেলেকে রক্ষা করতে এখন পরিবার প্রকৃত ঘটনা আড়াল করছেন।

‎ আজ শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের দাবি, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে বসতঘরের ভেতর পেট্রোল ঢেলে নিজের গায়ে দেয়া আগুনে শাওন সামান্য দগ্ধ হলেও বাঁচাতে গিয়ে তার বাবা হারুন হাওলাদারের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং দগ্ধ হারুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, শাওন তার স্ত্রী জান্নাতকে মারধর করার সময় বাবা বাঁধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার শরীরেই পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

‎ ‎তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দগ্ধ বাবা হারুন হাওলাদার বলেন, ছেলের সঙ্গে পুত্রবধূর ঝগড়াঝাঁটি হয়। একপর্যায়ে ছেলে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।

‎ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, ঘরগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় পুরো আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। ‎ ‎ ‎স্থানীয় অনেকেই দাবি করেন, শাওন মাদকাসক্ত। এর আগেও তিনি একাধিকবার অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছেন। তবে সংবাদটি প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে অভিযুক্ত শাওন জানান, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ে করে নিজের গায়ে আগুন দিতে চান তিনি। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে তার বাবা দগ্ধ হয়েছেন।