আকাশ থেকে ঝরল মরণবাণ: ৫ জেলায় বজ্রপাতে ১০ মৃত্যু

0
আকাশ থেকে ঝরল মরণবাণ: ৫ জেলায় বজ্রপাতে ১০ মৃত্যু

আজকের ডেস্কঃ বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহতদের মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন, নোয়াখালীতে একজন এবং রাঙ্গুনিয়ার একজন রয়েছেন। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক তিনটি স্থানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ধনু নদীতে প্রাণহানি সকাল ৯টার দিকে ধনু নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের শিকার হন আব্দুল মোতালিব (৫৫)। তিনি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে সেখানে এসেছিলেন। দুপুরে জাংঘালিয়া হাওরে কাজ করার সময় মেন্দিপুর ইউনিয়নের মোনায়েম খান (৫৫) এবং কৃষ্ণপুর হাওরে ধান কাটার সময় শুভ মণ্ডল নামে এক তরুণ নিহত হন।

সুনামগঞ্জ: হাওরে কাজ করতে গিয়ে ৩ কৃষকের বিদায় সুনামগঞ্জে ধান কাটার ভরা মৌসুমে বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে তিন কৃষকের প্রাণ। সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় নিহত হন। জামালগঞ্জ উপজেলার আবু সালেহ (২২) নামের এক তরুণ কৃষকও বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া শান্তিগঞ্জ উপজেলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন

হবিগঞ্জ: ধান রক্ষা করতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যুঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবীগঞ্জের গড়দার হাওরে ধান কাটার সময় মকছুদ আলী (৪০) নিহত হন। অন্যদিকে বানিয়াচংয়ের জাতুকর্ণপাড়ায় বাড়ির পাশের খলা (ধান মাড়াইয়ের স্থান) থেকে ধান গুছিয়ে আনার সময় বজ্রপাতের শিকার হন আব্দুস সালাম (৩৫)।

নোয়াখালী ও রাঙ্গুনীয়া: প্রাণ হারালেন আরও ২ জন হাতিয়া (নোয়াখালী): উপজেলার খাসের হাটে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামের এক যুবক বজ্রপাতে মারা যান। তিনি পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষক ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম): শান্তিনিকেতন এলাকায় বিলে সেচ কাজ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আমির শরীফ (৬২) নামের এক বর্গাচাষি বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন বারবার সতর্ক করছে যে, কালবৈশাখী ঝড়ের সময় খোলা মাঠ বা জলাশয় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যারা হাওর অঞ্চলে ধান কাটছেন, তাদের মেঘের গর্জন শোনার সাথে সাথে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড বা বড় গাছ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।