হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পাহাড়ি ঢল আর গত দুই দিনের টানা বর্ষণে বোরো চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। সোনালি ফসলে যখন মাঠ ভরে উঠেছিল, ঠিক তখনই অকাল বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির পাকা ধান। পাকা ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে শত শত কৃষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টার অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার বড় বড় হাওর ছাড়াও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট ছোট হাওরগুলোতে পানি দ্রুত জমে যাওয়ায় ধান কাটার সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকরা। তলিয়ে যাওয়া ধান পচে যাওয়ার ভয়ে অনেকে আধা-পাকা ধান কেটে ফেলার চেষ্টা করছেন, তবে শ্রমিকের অভাব ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাও ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির পাকা ফসল। হাওর এলাকার প্রায় ৬৭ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কাটা সম্ভব হলেও বাকি ধান এবং হাওর বহির্ভূত নিম্নাঞ্চলের ফসল এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিশ্চিত করে বলেন, “গত দুই দিনের মুষলধারে বৃষ্টির ফলে হাওর ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছি এবং দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।”
বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা জানান, ধার-দেনা করে ধান চাষ করেছিলেন তারা। ঘরে ফসল আসবে—এমন সময়ে সব পানি কেড়ে নিল। অনেক জায়গায় বুক সমান পানির নিচে ধান তলিয়ে থাকায় মেশিন বা কাস্তে দিয়ে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় এখন দিন কাটছে নবীগঞ্জের হাজারো প্রান্তিক চাষির।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা বা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

