শাহজাদপুরে পিআইও আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার

0
শাহজাদপুরে পিআইও আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার

শাহজাদপুর প্রতিনিধি: দুর্নীতির মামলায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (০৪ মে) দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (৩ মে) দিবাগত রাতে পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর রাতেই তাকে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরবর্তী ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী জারির আদেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আবুল কালাম আজাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ৩ জুলাই সম্পদ বিবরণী দুদকে দাখিল করেন। পরবর্তী ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদি হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, দায়ের করা মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ আয় দ্বারা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখেছেন।

যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অন্যদিকে ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া পিআইও আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পান দুদক কর্মকর্তারা। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করে সংস্থাটি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও এক কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দেন।

এ সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানকালে জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও এক কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। পরে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদি হয়ে আরও একটি মামলা করেন। এতে শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান ও আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়।

পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম জানান, দুদক বিশেষ অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ওই পিআইওকে গ্রেফতার করে থানায় হস্তান্তর করেন। সোমবার ( ৪ মে) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আবুল কালাম আজাদকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে সোমবার (৪ মে) দুপুরে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

অফিসের কর্মচারী আলতাফ হোসেন জানান, পিআইও সাহেব অফিসে আসেন নাই। তিনি কোথায় আছেন অফিসের কর্মচারীরা তা জানেন না। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত পিআইও আবুল কালাম আজাদ পাবনা জেলার সুজানগর থানার শ্যামপুর গ্রামের শমসের আলী মিয়ার ছেলে।