বঙ্গে গেরুয়া ঝড়: তৃণমূলের দুর্গে ভাঙন ধরিয়ে নবান্নের পথে বিজেপি

0
বঙ্গে গেরুয়া ঝড়: তৃণমূলের দুর্গে ভাঙন ধরিয়ে নবান্নের পথে বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঘাসফুল শিবিরের দখলে থাকা রাজ্যপাট এবার হাতছাড়া হওয়ার পথে। সোমবার (৪ মে) সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বিজেপি এবার ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। আনন্দবাজারসহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপি ১৯৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যা জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১৪৮) চেয়ে অনেক বেশি।

প্রাথমিক গণনায় বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার খবর আসতেই কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত রাজ্য বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে অকাল হোলি। কর্মী-সমর্থকরা আবির খেলে, মিষ্টি বিতরণ করে এবং জয় শ্রী রাম ধ্বনিতে চারপাশ মুখরিত করে তুলছেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর রাজ্যে সরকার গড়ার ‘সুঘ্রাণ’ পেয়ে গেরুয়া শিবিরে এখন উৎসবের মেজাজ। অন্যদিকে, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কালিঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় নেমে এসেছে পিনপতন নীরবতা। অনেক জায়গাতেই তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা পিছিয়ে থাকায় কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।

ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জয় নিশ্চিত বুঝে বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন জায়গায় জোড়াফুলের কার্যালয়ে হামলা চালাচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘গোমতী এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, আসানসোলে তৃণমূলের একটি দলীয় কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

‘এইসময় অনলাইন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুর্গাপুরেও তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বাঁকুড়ার কোতুলপুরে এক নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে তৃণমূল কার্যালয়ের চালে উঠে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা যায় বিজেপি সমর্থকদের।

ভোট গণনার এই প্রবণতা বজায় থাকলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। গত ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল বড় জয় পেলেও, ২০২৬-এ এসে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি এবং বিজেপির নিপুণ কৌশলে কুপোকাত হতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেনাপতিদের। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি শুধু ম্যাজিক ফিগার পার করেনি, বরং তারা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে ইতিহাস গড়ার পথে।

পুলিশ ও প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গণনা পরবর্তী সহিংসতা রুখতে রাজ্যের সর্বত্র কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে।