পলাশে পাষণ্ডতার শিকার ৯ বছরের শিশু: পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রামিমকে ‘হত্যা’

0
পলাশে পাষণ্ডতার শিকার ৯ বছরের শিশু: পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রামিমকে ‘হত্যা’

নরসিংদী প্রতিনিধিঃ নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। গ্যারেজে দুষ্টুমি করার ছলে ৯ বছরের এক শিশুর পায়ুপথে কমপ্রেশার মেশিনের বাতাস ঢুকিয়ে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর নাম রামিম। সে উপজেলার গজারিয়া চড়কারারদী গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে।

নিহত রামিমের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে গজারিয়া বাজারে তার দাদা আমজাদ হোসেনের ঢেউটিনের দোকানে আসে রামিম। যেহেতু তার বাবাও ওই বাজারের একজন স্যানিটারি ব্যবসায়ী, তাই বাজারটি ছিল রামিমের চেনা বিচরণক্ষেত্র।

দাদার দোকানের ঠিক পাশেই রয়েছে ফয়সাল মিয়ার মালিকানাধীন একটি রিকশা ও অটো ইজিবাইকের গ্যারেজ। শিশু রামিম সেখানে খেলাধুলা করছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ওই সময় একই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে রিকশাচালক সবুজ মিয়া ও তার সহযোগী শফিকুল রামিমকে নিয়ে দুষ্টুমির এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তার পায়ুপথে হাওয়া দেওয়ার মেশিনের (এয়ার কমপ্রেশার) সাহায্যে বাতাস ঢুকিয়ে দেয়।

বাতাস ঢোকানোর সঙ্গে সঙ্গেই রামিমের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে এবং সে যন্ত্রণায় কাতরাতে শুরু করে। তার আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্বজনরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে দ্রুত **নরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে** নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শিশু রামিম। তার এই অকাল ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং আইনত গুরুতর অপরাধ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত সবুজ ও শফিকুল পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।

ইদানীং দেশের বিভিন্ন কলকারখানা ও গ্যারেজে ‘দুষ্টুমি’র ছলে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো প্রাণঘাতী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনসচেতনতা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তিই পারে এমন নির্মম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।