বাংলাদেশ প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর ‘লোহালিয়া’ নদীর পূর্বপাড়ে বাউফল উপজেলার ‘বগা’, পশ্চিমপাড়ে দুমকি উপজেলার ‘চরগরবদি’। নদী পারাপারে ফেরির সাহায্য নিতে হয়। কোনো কারণে ফেরি আটকে গেলে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে ভয়াবহ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কিন্তু মাস দুয়েক আগে অসুস্থ নানাকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়ে এমনই বিড়ম্বনায় পড়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিরা বিনতে মাহমুদ। তার তিক্ত অভিজ্ঞতা জানিয়ে ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি লিখেছে সে। বলেছে, বগা ফেরিঘাটে অবিলম্বে সেতু নির্মাণ করা আবশ্যক। প্রধানমন্ত্রী সাড়া দিয়েছেন। সেতুমন্ত্রীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বিষয়টি এখন ‘টক অব দ্য রিজিওন’।
অসুস্থ নানাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বগা ফেরিঘাটে আটকে যায় অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতর নানার পাশে বসা ছোট্ট আবিরার হৃদয়ে জমানো চাপা আর্তনাদ যেন বুক ফেটে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
অপেক্ষার প্রহর কত কষ্টের, তা আবিরা সেদিন বুঝে গেছে। ছোট্ট আবিরা কখন তার নানাকে নিয়ে হাসপাতালে যাবে, সেই প্রতীক্ষার যেন অবসান হয় না। ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষার পরও ওপার থেকে ফেরি আসে না। হৃদরোগে আক্রান্ত প্রিয় নানাকে নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই যাচ্ছে আবিরার। কখন সে ফেরি পার হবে? কখন হাসপাতালে নিয়ে নানাকে ডাক্তার দেখাবে? এসব প্রশ্ন আবিরার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে ওপার থেকে ফেরি আসার পর আবিরার মন কিছুটা শান্ত হয়। ফেরি পার হয়ে গন্তব্যে ছুটছে অ্যাম্বুলেন্স। নানার পাশে বসে আবিরার মাথায় নতুন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। ফেরিঘাটের পরিস্থিতি নিয়ে যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আবিরা, না জানি তার মতো কতশত মানুষ এভাবে কষ্ট পাচ্ছে। রোগী নিয়ে মানুষ ফেরিঘাটে প্রতীক্ষার প্রহর গুনে কতটা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে? এসব সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
সেই প্রয়োজন মেটাতে আবিরা তার ভাইকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বগা ফেরিঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে চিঠি লেখার পরিকল্পনা করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা আবিরার সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। ১৯ মে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বগা সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন পটুয়াখালী সদর আসনের সংসদ-সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরি, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জামায়াতের সংসদ-সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ। সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করার জন্য এসেছি।
ইনশাআল্লাহ চলতি বছরের শেষ কিংবা আগামী বছরের শুরুতে এখানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

