গোর-এ শহীদ ময়দানে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত সম্পন্ন: লাখো মুসল্লির ঢল, মোনাজাতে ফিলিস্তিন ও চব্বিশের শহীদদের স্মরণ

0
গোর-এ শহীদ ময়দানে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত সম্পন্ন: লাখো মুসল্লির ঢল, মোনাজাতে ফিলিস্তিন ও চব্বিশের শহীদদের স্মরণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি: কঠোর ও নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী এই ময়দানে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়। গত কয়েকদিনের টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে এবার পাড়া-মহল্লার মসজিদ ও স্থানীয় ঈদগাহগুলোতে অনেক মুসল্লি নামাজ আদায় করায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় উপস্থিতি কিছুটা কম হলেও, দূর-দূরান্ত থেকে আসা লাখো মানুষের সমাগমে মুখরিত ছিল পুরো ময়দান।

ভোররাত থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও সকাল ৬টা থেকেই জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা ঐতিহাসিক এই ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন। নির্ধারিত সময় ঠিক সকাল সাড়ে ৮টায় লাখো মুসল্লির আকুলতা নিয়ে শুরু হয় ঈদের নামাজ।

বৃহৎ এই জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুরের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী। নামাজ শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও ইরানের চলমান সংকট নিরসন, বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলার পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে গভীর দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

দিনাজপুরের এই ময়দানটি বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ঈদগাহ হিসেবে স্বীকৃত। এর কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো: প্রায় ২১.৯৯ একর বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মাঠ। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সাল থেকেই এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে এখানে আন্তর্জাতিক মানের ও আধুনিক নির্মাণশৈলী সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন ‘ঈদগাহ মিনার’ নির্মাণের পর থেকে বৃহৎ পরিসরে ঈদের জামাত শুরু হয়।

ঈদের এই মহতী জামাতে অংশ নেন দিনাজপুরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। নামাজে শামিল হন: দিনাজপুর সদর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম। পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনতা।

নামাজ শেষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে দেশের এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিচ্ছিদ্র নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার জন্য আমরা সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।”

সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত নির্ধারিত হওয়ায় দূরবর্তী উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে আসা মুসল্লিরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে আসা কয়েকজন মুসল্লি জানান, যাতায়াতের পর্যাপ্ত সময় পাওয়ায় তারা নির্বিঘ্নে এই ঐতিহাসিক জামাতে শরিক হতে পেরেছেন। বিশাল এই জনসমুদ্রে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও আপ্লুত।