মোবাইল ফোনে ‘কালিমা’ পড়ে বিয়ের নাটক, প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে মাদ্রাসা ছাত্রী!

0
মোবাইল ফোনে 'কালিমা' পড়ে বিয়ের নাটক, প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে মাদ্রাসা ছাত্রী!

তালা ঝুলিয়ে পালালো প্রেমিক ও তার পরিবার; চারঘাটে তোলপাড়

মাসুদ রানা রাব্বানীঃ বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন ২০ বছর বয়সী এক যুবতী। কিন্তু প্রেমিকা বাড়িতে পা রাখতেই ঘরের দরজায় মস্ত বড় তালা ঝুলিয়ে সপরিবারে চম্পট দিয়েছেন প্রেমিক ও তার পরিবার। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর এলাকায়।

আজ রোববার (৩১ মে) দুপুর ৩টা থেকে অভিযুক্ত প্রেমিক তাইজুল ইসলামের (২৫) বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন ওই যুবতী। অভিযুক্ত তাইজুল ইউসুফপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।

ভুক্তভোগী যুবতীর অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস আগে মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় তাইজুলের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাইজুল তার সাথে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

ভুক্তভোগী যুবতী জানায়, “আজ (রোববার) আমাদের বিয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। তাইজুল আমাকে মোবাইলে কল দিয়ে ধর্মীয় নিয়মে কালিমা পড়ে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে আশ্বাস দেয়। এরপর কাজি অফিসে আসার কথা বলে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়।”

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাইজুল ও তার পরিবার বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। উল্টো বর্তমানে তাইজুল মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যুবতীর দাবি— “স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো পথ থাকবে না।” এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাইজুলের চরিত্র মোটেও ফুলের মতো পবিত্র নয়! এর আগেও অন্য এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ইউসুফপুর স্থানীয় সালিশ কমিটির সভাপতি আফাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, “আমি নিজে তাইজুল ও তার বাবাকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি।” “তাইজুল স্পষ্ট জানিয়েছে, অন্য এক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে এবং সে তাকেই বিয়ে করবে।” “ছেলের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো নয়। আমরা মেয়ের পরিবারকে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।”

আপাতত আইনের দ্বারস্থ না হলেও প্রেমিককে ছাড় দিচ্ছে না মেয়ের পরিবার। ভুক্তভোগী যুবতীর খালা মোসাঃ মুনিয়া জানান, ছেলের পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসা ও বিয়ের জন্য ৫ দিনের সময় চাওয়া হয়েছে। তাই আপাতত তারা অপেক্ষা করছেন। তবে ৫ দিন পর বিয়ে না হলে তারা থানায় গিয়ে সরাসরি মামলা ঠুকে দেবেন।

এই বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট রজব আলী জানান, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা একটি গুরুতর অপরাধ। আদালতে এটি প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত আছি। অভিযোগ পাওয়া গেলেই প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”