তাহিরপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে মিয়া হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই স্ট্যাটাসের সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না,সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত মিয়া হোসেন উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের মৃত মিস্টার আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতের কোনো এক সময় তিনি নিজ বসতঘরের বৈদ্যুতিক ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন। বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে গিয়ে ঘরের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত ও সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে,তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মৃত্যুর আগে নিজের “Mia Hossen”নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নই”—লিখে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়। তবে স্ট্যাটাসটির সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না,সে বিষয়ে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও জানান, নিহতের মায়ের ভাষ্যমতে, পারিবারিক ও মানসিক চাপের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় পুরো আমতৈল গ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটিও স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে আইনগতভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

