জামালপুরে স্বস্তিকা রাইস মিলের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ

0
জামালপুরে স্বস্তিকা রাইস মিলের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাউসী এলাকায় অবস্থিত মেসার্স স্বস্তিকা রাইস মিলকে ঘিরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা খাদ্য গুদাম সুত্রে জানা গেছে, সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়ন এর সানাকুর এলাকার এসএস অটো রাইস মিল এর স্বত্বাধিকারী আনোয়া উস সাদাব লাঞ্জু মিয়াকে দুই কিস্তিতে মোট ১২৮ টন এবং বাউশী এলাকায় স্বস্তিকা রাইসমিল-এর স্বত্বাধিকারী সমীর কুমার সাহা তুষারকে ৬৪ টন ধান বরাদ্দ দেওয়া হয় । চলতি মৌসুমে সরিষাবাড়ী উপজেলার খাদ্য গুদামে সরকারী বরাদ্দের সম্পুর্ন ধান সংগ্রহ করে চাল সরবরাহের চেষ্টা করছেন অসাধু সিন্ডিকেট। সঠিক তদন্ত করে এই চাল কালোবাজারী ও ধান কালোবাজারী ৩/৪ সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ, র‍্যাব ১৪, গোয়েন্দা সংস্থা ও এনএসআই এর কর্মকর্তাদের কাছে ছায়া তদন্ত করে গ্রেফতারের জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।

স্বস্তিকা রাইসমিলের স্বত্বাধিকারী সমীর কুমার সাহা তুষার অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি, বিদ্যমান আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করেই ধান সংগ্রহ, চাল উৎপাদন ও সরবরাহের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ধান সংগ্রহ এবং চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এতে সরকার, সাধারণ মানুষ কিংবা অন্য কোনো পক্ষের কোনো ধরনের ক্ষতি হয়নি। প্রতিষ্ঠানের সব হিসাব-নিকাশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সরকারের নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির মধ্যেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, সরকারি বরাদ্দ এবং সব ধরনের কার্যক্রম সরকারি বিধি-বিধানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সিন্ডিকেট সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে সরিষাবাড়ী উপজেলা খাদ্য গুদামে এককভাবে ধান সংগ্রহ ও চাল সরবরাহের চেষ্টা করে আসছে। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তার প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। সমীর কুমার সাহা তুষার আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল জামালপুরে কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিকের কাছে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ করে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আইডি থেকেও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ করেন, যথাযথ তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য। একই সঙ্গে গুজব ও অপপ্রচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে জামালপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: আসাদুজ্জামান খান বলেন, সরিষাবাড়ী উপজেলায় ধান ক্রাশিংয়ের জন্য মিল নির্বাচন খাদ্য অধিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী করা হয়েছে। কোনো উপজেলায় পর্যাপ্ত অটোমিল না থাকলে অথবা মিল মালিকরা সরকারি নির্ধারিত দরে ধান ক্রাশিংয়ে আগ্রহী না হলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য জেলার মিলেও ধান ক্রাশিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বস্তিকা রাইসমিলের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির পুষ্টি চাল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় কমানো এবং ধান সংগ্রহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট মিলের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সরিষাবাড়ীতে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সচল রাখার লক্ষ্যে পরবর্তীতে দুইটি মিলের মধ্যে বরাদ্দ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।