অভিযোগের পরও থামেনি নিষিদ্ধ জাল,থলেরবন্দে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

0
অভিযোগের পরও থামেনি নিষিদ্ধ জাল,থলেরবন্দে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

সুনামগঞ্জ প্রতিবেদক: মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়াতে সরকার জলমহালগুলোতে পোনা অবমুক্ত, অভয়াশ্রম ও বিল নার্সারি স্থাপনসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মাছের প্রজনন ও দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এসব উদ্যোগের লক্ষ্য যেখানে জলজ সম্পদ সমৃদ্ধ করা,সেখানে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জালের ফাঁদে সেই মাছই নিঃশেষ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার থলেরবন্দ জলমহালে।দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে অবমুক্ত করা পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ নিষিদ্ধ জালে ধরা পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন জলমহালের ইজারাদাররা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়,নিষিদ্ধ জাল বন্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং এ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধ হয়নি বলে দাবি অভিযোগকারীর।ফলে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও নিষিদ্ধ জাল বন্ধে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ কোথায়?

গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল চাকমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন থলেরবন্দ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আমিন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন,সমিতি জলমহালটি ইজারা নিয়ে নির্ধারিত শর্ত মেনে মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে কাজ করে আসছে।এরই অংশ হিসেবে জলমহালে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

জলমহালটিতে রয়েছে একটি অভয়াশ্রম ও একটি বিল নার্সারি। এসবের উদ্দেশ্য হলো মাছের নিরাপদ প্রজনন,বংশবিস্তার ও উৎপাদন বাড়ানো। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, জলমহালের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এসব জালে পোনা মাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ পর্যন্ত আটকা পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি,নিষিদ্ধ রিং জালের এমন ব্যবহার অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন সদ্য অবমুক্ত করা পোনা নষ্ট হবে,অন্যদিকে অভয়াশ্রম ও বিল নার্সারিতে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে জলমহালে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পুরো প্রচেষ্টাই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পরও থলেরবন্দ জলমহালে রিং জাল দিয়ে মাছ শিকার চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী।ফলে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ এবং প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানানোর পরও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না,তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগকারীর ভাষ্য,প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর পরও যদি একইভাবে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার অব্যাহত থাকে, তাহলে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নেওয়া উদ্যোগের বাস্তব সুফল পাওয়া কঠিন।দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ জাল অপসারণ এবং এর ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

থলেরবন্দ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম আমিন বলেন, জলমহালে মাছের উৎপাদন ও প্রজনন বাড়াতে সমিতির পক্ষ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।অভয়াশ্রম ও বিল নার্সারিও রয়েছে।কিন্তু নিষিদ্ধ রিং জালে পোনা ও দেশীয় মাছ ধরা হলে এসব উদ্যোগের কোনো সুফল থাকবে না।দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ জাল বন্ধ করে জলমহালের মাছের সম্পদ রক্ষার দাবি জানান তিনি।