সুমন গাজী: গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে ওশিন স্পিনিং লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা করলে দুজন শ্রমিক আহত হয়।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, কারখানায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ শ্রমিক কাজ করেন। আমাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বেতন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করেনি। বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
শ্রমিক সালমা খাতুন বলেন, দুই মাস ধরে কারখানা বন্ধ। বেতনও দিচ্ছে না। ঘরভাড়া, দোকানের বাকি,সব জমে গেছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা আমাদের পাওনা বেতন চাই।
আরেক শ্রমিক হাজেরা বলেন, বেতন দেওয়ার কথা বলে বারবার সময় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। আমাদের অনেকের বাসাভাড়া বাকি, বাজারের দোকানে দেনা হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নেমেছি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে তাঁরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটে। এতে দুজন শ্রমিক আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে অবস্থান নেন। শ্রমিকেরা জানান, দ্রুত তাঁদের দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা না হলে তাঁরা আবারও আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. স্বপন কুমার বলেন, বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে। পুলিশ খবর পেয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। লাঠিচার্জের বিষয়টি সঠিক নয়। শ্রমিকরা দৌড়াদৌড়ি করতে পড়ে আহত হতে পারে। তিনি আরও জানান, শ্রমিকরা ২০ মিনিট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।
কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা রেখা নাগ বলেন, বেতন পরিশোধের জন্য কারখানা কতৃপক্ষ চেষ্টা করছে। গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

