দুর্গাপুরে কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ: বিয়ে দিয়ে ধামাচাপার চেষ্টা ব্যর্থ, গ্রেপ্তার ৫০ বছরের কাশেম

0
দুর্গাপুরে কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণ: বিয়ে দিয়ে ধামাচাপার চেষ্টা ব্যর্থ, গ্রেপ্তার ৫০ বছরের কাশেম

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাড়ি থেকে মুখ চেপে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে আবুল কাশেম (৫০) নামে এক প্রৌঢ়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তকে রক্ষায় বিয়ে দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর তৎপরতা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পৌর শহরের বালিকান্দি গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার জানান, গত শনিবার রাতে খাবারের পর থালাবাসন ধোয়ার পানি ফেলতে ঘরের বাইরে গেলে ওৎ পেতে থাকা আবুল কাশেম ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভয়ে স্তব্ধ কিশোরী পরদিন প্রতিবেশী এক নারীর কাছে নিজের নির্মম অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

আইনি ব্যবস্থা এড়াতে ও বিতর্ক ঢাকতে অভিযুক্ত কাশেমের স্ত্রী অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন—তিনি ওই কিশোরীকে নিজ স্বামীর সঙ্গেই বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের দ্বারে পৌঁছান। এতেও কাজ না হলে স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ও মাতব্বর বিষয়টি গ্রাম্য সালিশের নামে ধামাচাপা দেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালান।

তবে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকরা এলাকায় গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে নির্যাতনের শিকার কিশোরী তাদের কাছে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে। সাংবাদিকদের সহায়তায় বিষয়টি অবিলম্বে দুর্গাপুর থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা দ্রুত তৎপরতা দেখায়।

দুর্গাপুরের নিম্নবিত্ত পরিবারটির উপার্জনক্ষম বাবা ঝালমুড়ি বিক্রি করেন এবং মা পরের বাড়ি কাজ করে সংসার চালান। দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হলেও পিতার লিখিত অভিযোগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “ঘটনাটিতে মামলা হিসেবে লিখিত এজাহার নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রাথমিক অভিযানেই মূল অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার সকালে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।”