কলাপাড়া প্রতিবেদক: আসন্ন দুর্গাপূজা ও বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে সুর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলো বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট গুলোর ৭০-৮০ ভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন কতৃপক্ষ। দুর্গাপূজা ও কার্নিভাল উৎসবে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোটেল মালিক সমিতি রুম ভাড়ার উপর ৫০ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন।বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জানাগেছে, আগামী মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিনের দুর্গাপূজার ছুটি, শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুইদিন ব্যাপী বীচ কার্নিভাল উৎসব। একদিকে ৫ দিনের লম্বা ছুটি, অন্যদিকে বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা কুয়াকাটায় ২-৩ লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে।
বীচ কার্নিভাল উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বীচ ম্যারাথন, বীচ ফুটবল সহ নানা আয়োজন থাকবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন তথা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ বীচ কার্নিভাল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই জানাগেছে জেলা প্রশাসন সুত্রে।
এরই মধ্যে ১৪ অক্টোবর (বুধবার) কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মোঃ আরিফুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মোঃ ইয়াসীন সাদেক সহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ সৈকত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আজ ১৫ অক্টোবর সন্ধায় জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমুলক সভার আহবান করেছেন। দুর্গাপূজা ও কার্নিভাল উৎসবকে সুন্দর ও স্বার্থক করতে সরকারি বেসরকারি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করবেন। ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছরিয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপক রাজিব হোসেন জানান, দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি এবং বীচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাস এর সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার ৭০ ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। দু’য়েক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং হবার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, দুর্গাপূজা ও কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর হোটেল মোটেল রিসোর্ট গুলোর ৬০-৭০ ভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেল গুলোর এখনো অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরো জানান, দুর্গাপুজা এবং কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিকের উপরে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, দুর্গাপূজা ও কার্নিভাল উৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগতরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, এসআরবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো ইয়াসিন সাদেক বলেন,৫ দিনের সরকারি ছুটি ও বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা নতুনরূপে সাজতেছে। থানা পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

