নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে এবং ওয়াজ মাহফিলের কমিটিতে নাম না রাখার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রিপন মিয়া (৪৫) নামের এক যুবদল নেতা ও কাঠ ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের পাইসকা কুলি মার্কেট এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রিপন মিয়া পাইসকা এলাকার মৃত শহিদুল্লাহর ছেলে। তিনি ভোলাবো ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে কাঠের ব্যবসা করতেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহতের দুই ছেলে শাওন মিয়া ও শাহিন মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর রাতে পাইসকা এলাকায় স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে একটি বড় পরিসরের ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মাহফিলের আয়োজক কমিটিতে নিহত রিপন মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ও চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি—যাদের মধ্যে রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীর নাম উল্লেখযোগ্য—তাদের নাম ওই কমিটিতে না রাখায় তারা শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নিহত রিপন মিয়া নিজ এলাকায় এই মাদকের কারবারের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন এবং জোরালো প্রতিবাদ করতেন। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা তার ওপর আগে থেকেই চরম ক্ষিপ্ত ছিল।
পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, পূর্ববিরোধ ও মাদকের প্রতিবাদ করার জেরে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রিপন মিয়ার সঙ্গে রিফাত কাজী ও তার লোকজনের কথা কাটাকাটি ও তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিফাত কাজী, ফরহাদ কাজী, তানভীর কাজী, আমিরুল কাজী ও ইমন কাজীর নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হঠাৎ রিপন মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “রিপন মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে প্রতিপক্ষ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।”
এদিকে দলীয় নেতার এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা অনতিবিলম্বে খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

