বাংলাদেশ প্রতিবেদকঃ বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনোভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলে তা জুলাই আন্দোলনের শহীদদের সঙ্গে চরম প্রতারণা করা হবে বলে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং পার্কটির নতুন আঙ্গিকে আধুনিকায়ন কাজের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলকে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সব ব্যাপারে একমত হতে না পারলেও দেশের মানুষের সার্বিক স্বার্থ ও কল্যাণে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই।”
আমন্ত্রণ সত্ত্বেও বিরোধীদলের অনুপস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দল জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে না বলেই আজ এই ঐতিহাসিক ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। তারা আবার তাদের পুরনো হিংসাত্মক রাজনৈতিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং কেবল বিরোধিতার খাতিরেই বিরোধিতা করছে।”
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলন—দুই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই ছিল এক ও অভিন্ন। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দেশের জনগণ তাদের হারিয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অগণিত শহীদের রক্ত, যাদের মধ্যে ৮৩৪ জন শহীদের নাম স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শহীদদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী ৫ বছরের জন্য জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে।”
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সব ধরনের রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে বিরোধীদলকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। কারণ এডিস মশা সরকারি কিংবা বিরোধীদল বলে কাউকে আলাদা করে চেনে না।”
শহীদ পরিবারের উপস্থিতি: সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উদ্বোধনী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
স্মৃতিস্তম্ভের নকশা: প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই ৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভের সামনে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক রাখা হয়েছে।
আধুনিক উদ্যান ও নাগরিক সুবিধা: দীর্ঘ সংস্কার শেষে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া এই উদ্যানে ৩.১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ, একটি আধুনিক ব্যায়ামাগার, পার্কিং, গ্রন্থাগার ও জলাশয়ের ঘাট রয়েছে। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে এতে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং নতুন নির্মিত গ্রন্থাগারসহ উদ্যানের চারপাশ ঘুরে দেখেন।

