এক বাংলাদেশ, সবার অধিকার: ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

0
এক বাংলাদেশ, সবার অধিকার: ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান—বাংলাদেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশের জনগণ দলীয় কিংবা ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে কেবল ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে একাত্ততার পরিচয় দিয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধান অতিথির ভাষণে এই জোরালো বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু বলে রাষ্ট্রে কেউ আলাদা নয়; এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান এবং রাষ্ট্র সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় কেউ ধর্মীয় পরিচয় বা গোত্র দেখেনি। লাখো শহীদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন দেশে ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।

যুদ্ধের ময়দানে কে হিন্দু, কে মুসলিম, কে বৌদ্ধ বা কে খ্রিস্টান—তা কখনোই মূখ্য ছিল না। সবার একমাত্র পরিচয় ছিল তারা বাঙালি ও দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াকু সৈনিক।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও দেশের গণতন্ত্র যখনই স্বৈরাচারী শক্তির দ্বারা হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই এ দেশের ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক কর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমেছেন।

ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং কথা বলার স্বাধীনতার দাবিতে গড়ে ওঠা প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব মত ও পথের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। সেখানে সহযোদ্ধার ধর্মীয় পরিচয় কখনো আন্দোলনের গতি বা ঐক্যে কোনো প্রভাব ফেলেনি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারপতনের এক অনন্য জনজোয়ার।

শিশু, তরুণ, যুবক, নারী ও বয়োবৃদ্ধ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি কোণ থেকে লাখো মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে যখন রাজপথ রক্তাক্ত হয়েছে, তখন সহযোদ্ধাকে বাঁচানোর আকুতিতে কেউ জানতে চায়নি গুলিবিদ্ধ মানুষটি কোন ধর্মের অনুসারী। হাসপাতালে নেওয়ার সময় কিংবা চিকিৎসালয়ে জীবনরক্ষার লড়াইয়ে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ কেবল একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে ব্রতী হয়েছেন। এই চরম মানবিক দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে যে, সংকটকালে দেশের মানুষের মনন ও আত্মায় কেবল ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়টিই প্রধান হয়ে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে নাগরিক অধিকারের সমতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। রাষ্ট্রে আইনের শাসন এবং সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল নাগরিকের জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর। দুর্গাপূজামণ্ডপের এই মিলনমেলায় প্রধানমন্ত্রী সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।