বিচারের নাম করে যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

0
বিচারের নাম করে যুবককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাবা-ছেলের সাথে বাকবিতন্ডা ও বিরোধের জের ধরে এক যুবককে বিচার করার নাম করে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই যুবক। আহত যুবক মো. বাবু আলী (২৫) সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের কেতাবুল আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী, আহত ভুক্তভোগী ও তার পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজমিস্ত্রী যুবক বাবু ও তার বাবা কেতাবুলের মতবিরোধকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডা হয়। এসময় ঘরে তালা মেরে বাড়ি থেকো বেরিয়ে যেতে বলে বাবা। পরে ছেলে ঘরের চাবি চাইতে গেলে এনিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এবিষয়ে সন্ধ্যায় বাবা কেতাবুল আলী অভিযোগ দেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি মেম্বারকে। পরে মনি মেম্বারের নেতৃত্বে তার দুই ছেলেসহ বাবুকে বেধড়ক মারধর করে।

আহত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, বাবা কেতাবুল আলী মনি মেম্বারকে অভিযোগ দেয়ার পর সে তার দুই ছেলে আশিক ও সাব্বিরকে পাঠিয়ে মটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় তার বাড়ির সামনে। আহত যুবক বাবুর মা নাসিমা বেগম বলেন, মনি মেম্বার নিজে দুই হাত পেছনে করে বেঁধে দেয়। পরে তার দুই ছেলে বাঁশ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পেটায়। এসময় মুখ, হাত, বুক ও পায়ে জখম হয়। পরে স্থানীয়রা খবর দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি উপযুক্ত বিচারের দাবি জানান।

আহত বাবুর বোন নাসরিন খাতুন জানান, আমার বাবার সাথে সামান্য কথা নিয়ে বাকবিতন্ডা হয় ভাইয়ের। এনিয়ে বাবা অভিযোগ দেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি মেম্বারকে। তিনি বিচার করার কথা বলে ভাইকে দুই ছেলে দিয়ে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছেমতো বেপরোয়াভাবে মারধর করেছে। ভাই এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। ঠিকমতো নড়াচড়া ও কথা বলতে পারছে না। বিচার করার কথা বলে নিয়ে গেলেও তা না করে এমনভাবে নির্যাতন করেছে। আমরা এর উপযুক্ত বিচার চাই।

গুরুতর আহত বাবু আলী বলেন, বাবার সাথে বিরোধ হয়েছিল। বিরোধের কারন ছিল, বাবা সেদিনই ঢাকা যেতে বলছিল, আমি দুদিন পর যাব বলে জানালে কথা কাটাকাটি হয়। এই অভিযোগ মনি মেম্বারকে দেয়ার পর তার দুই ছেলে আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় বিচার করা হবে বলে। অথচ তার (মনি মেম্বার) বাড়ির সামনে গিয়েই ইচ্ছেমতো মারধর শুরু করে। বারবার অনুরোধ করলেও দুই ছেলে ও মনি মেম্বার নিজেও বেধড়ক মারধর করে আমাকে।

এবিষয়ে ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মনিরুল ইসলাম মনি মেম্বার জানান, বাবা কেতাবুল আলী অভিযোগ দেয়ার পর আমার বাড়ির সামনে আসে বাবু। এসময় এখানে এসেও তারা বিরোধে জড়ায়। এক পর্যায়ে বাবার গায়ে হাত তুললে আমার দুই ছেলেকে সরিয়ে দিতে বলি। ছুটাতে গিয়ে হয়ত কিছুটা মারধর হতে পারে।

বর্তমানে আহত বাবু আলী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের অর্থ-সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় আহত বাবু আলীর পরিবার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন আকন্দ বলেন, এনিয়ে থানায় কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।